ইসলামী আন্দোলনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ আসনের প্রার্থী হলেন মাওলানা নিয়াজুল করিম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লা বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের নামের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শনিবার সংগঠনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম প্রার্থীদের নামের প্রাথমিক তালিকার অনুমোদন দিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ আসনে প্রার্থী হলেন দলটির জেলা সেক্রেটারী মাওলানা নিয়াজুল করিম।
কে এই নিয়াজুল করিম ?
আলহাজ্ব মাও. গাজী নিয়াজুল করীম ১৯৭৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সুলতানপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট শালিশকারক মরহুম জনাব মলাই মিয়া সর্দার, মাতা ফুলচান বেগম। তাঁদের পূর্বপুরুষগণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ঐতিহ্যবাহি শালগাঁও কালিসীমার দুলা গাজীর বংশের, ১৯৪৭ সালে সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুরে চলে আসেন। পারিবারিক জীবনে চার ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
শিক্ষাজীবন
তিনি বিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। অতপর দঃ জগৎসার ইসলামিয়া ইয়াকুবিয়া মাদরাসা, চান্দপুর মিফতাহুল উলূম মাদরাসা, বিশ্বখ্যাত দীনি মারকায পটিয়া মাদ্রাসা এবং দেশের শীর্ষ ইসলামী বিদ্যাপীঠ জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রইসুল মুফাছছিরীন আল্লামা সিরাজুল ইসলাম রহ. (বড় হুজুর) থেকে বুখারী শরীফ, দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) সমাপ্ত করেন। বর্তমানে জামিয়া ইউনুছিয়ার শাইখুল হাদিস ও মুহতামিম পীরে কামেল আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ সাহেবের এযাজত প্রাপ্ত খলিফা ও খানকায়ে মুবারাকা নামে ইসলাহী খানকা পরিচালনা করছেন।
কর্মজীবন
মাও. গাজী নিয়াজুল করীম কর্মজীবনের শুরুতে মোহনপুর আনোয়ারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম, সুলতানপুর বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও উরশিউড়া দ. বাসস্ট্যান্ড মসজিদে আবু বকর রা. দীর্ঘদিন ইমাম ও খতীবের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে নিজ প্রতিষ্ঠিত বিরামপুর বাইতুল করীম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী রাধিকা চৌমুহনীতে রিদওয়ান বেডিং, ফোম, পর্দা ও ফাইজান কনজ্যুমার প্রোডাক্টস এর পরিবেশক নাজাহ্-নাজিবা এন্টারপ্রাইজ নামে
দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার
তিনি ১৯৯৩ সালে কুতুবুল আলম সৈয়দ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহ. এর হাতে সদস্য ফরম পূরণ করে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। পর্যায়ক্রমে জেলা প্রচার সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও ৩ সেশন জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে কুতুবুল আলম সৈয়দ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহ. ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা সেক্রেটারির দায়িত্ব প্রদান করেন। দীর্ঘ ১৪ বছর উক্ত দায়িত্ব পালনের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহযোগী সংগঠন জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পুনরায় ২০২৩-২৪ সেশন থেকে অধ্যবধি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর দ. অঞ্চল উলামা ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারীর দায়িত্বরত আছেন। তিনি গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও নবম জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে ২০০৮-২০১১ পীর সাহেব চরমোনাই
মনোনীত হয়ে হাতপাখা প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন।
১৯৯৮ সালে এনজিও বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন। ২০০১ সালে ফতোয়া বিরোধী হাইকোর্টের রায় বাতিলের দাবীতে আন্দোলনরত অবস্থায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে শারীরিকভাবে নির্যাতিত হন। ২০২১ সালে মোদী বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী দুঃশাসনের র্যাব কর্তৃক গ্রেফতার ও নির্যাতনের স্বীকার হয়ে প্রায় ৭ মাসকারাগারে ছিলেন।
মাও. গাজী নিয়াজুল করীম উত্তরাধিকার সূত্রে ও স্বভাবসুলভভাবে বিভিন্ন প্রকার সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। তিনি এলাকাবাসীর বিপদে আপদে পাশে দাড়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের শালিশ বোর্ডের সদস্য হিসেবে সমাজসেবায় অবদান রাখছেন।



















