মুন্সেফপাড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ যুবক মারা গেছেন
মুন্সেফপাড়ায় ইভটিজিংয়ের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাগর মিয়া (৩৫) নামে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সাগর মিয়া জেলা শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী ও প্রাইভেট কার ভাড়া দিতেন। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শহরের মুন্সেফপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, পূর্ববিরোধের জেরে গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সাগরকে গুলি করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হলে গতকাল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে সাগরের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মুন্সেফপাড়ার কয়েকজন মঙ্গলবার তাকে মারধর করে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বুধবার সন্ধ্যায় মুন্সেফপাড়া এলাকায় উভয় পক্ষ মিলিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাগর ওই এলাকায় দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন সেখানে এসে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে স্থানীয়দের একজন প্রকাশ্যে গুলি চালায় এবং সাগরের পায়ে ছুরিকাঘাত করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাগরকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গত বুধবার রাতে সাগরের বাবা আবু সাঈদ বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি মামলা করেন। এতে ইমন ইসলাম, একই এলাকার অনিক মিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। গত বুধবার রাত থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে অনিকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের গতকাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ইমনসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



















