Main Menu

সরাইলে মামলা তুলে নিতে বাদীর পরিবারকে হুমকি

+100%-

মোহাম্মদ মাসুদ, সরাইল ॥ জায়গা জমির বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই বৃদ্ধসহ হাসপাতালে এক পরিবারের ৫ জন। রেহাই পায়নি মহিলারাও। মাথা ফাটিয়েছে। ভেঙে দিয়েছে হাত। এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বৃদ্ধ মুরজান ঠাকুর (৬০)। এব্যাপারে সরাইল থানা মামলা হয়েছে ।

উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল ঠাকুর বাড়িতে ঘটেছে এ তান্ডব। সরাইল থানা পুলিশ মামলার এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার কুদরত আলী (৪০) একজন মাদক ব্যবসায়ী। অন্য আসামিরা বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছে। আর মামলা প্রত্যাহার করতে হুমকি দিচ্ছে বাদী ও তার স্বজনদের। রাস্তাঘাটে ওঁৎ পেতে বসে থাকে বাদী ও তার স্বজনদের মারধর করতে। তাই আসামি পক্ষের ভয়ে সর্বদাই আতঙ্কগ্রস্ত এখন বাদীর পরিবারের সব সদস্য। গ্রেপ্তার না করতে প্রভাবশালীদের তদবিরের চাপে বেকায়দায় পুলিশ।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইরল গ্রামের একই গোত্রের মুরজান ঠাকুর ও স্বপন ঠাকুরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত ১লা মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বপন ঠাকুরের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন লোক নানা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুরজান ঠাকুরের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা মুরজানসহ পরিবারের সব নারী পুরুষকে ব্যাপক মারধর করে। গুরুতর আহত হয় বৃদ্ধ মুরজান ঠাকুর ও তার আপন ভাই মজিবুর ঠাকুর (৫০)। এছাড়া মুরজানের মেয়ে সুচী আক্তার, ছেলে নাহিদ ঠাকুর, ভাইপো সাইফুল ইসলাম ও চাদনী ঠাকুর আহত হয়েছে। শ্লীলতাহানির পাশাপাশি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মুরজান ঠাকুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এখনো সেখানেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মুরজান ঠাকুর।

এ ঘটনায় মোজাম্মেল ঠাকুর বাদী হয়ে সরাইল থানায় গত ৫ই মে একটি মামলা করেন। মামলার বাদী মোজাম্মেল ও আহত মুজিবুর বলেন, মামলার করার পর থেকে স্বপনসহ সব আসামি ও তাদের লোকজন বাদীর গোটা পরিবারের লোকজনকে নানাভাবে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে। তাদের ছেলে-মেয়েরা ভয়ে স্কুলে যেতে চায়ছে না। পথিমধ্যে আসামিরা ওঁৎ পেতে থাকে। গ্রেপ্তার কুদরত আলী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এসে বাদীর বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ারও হুমকি দিচ্ছে। এমন একটি ঘটনার পরও মাদক ব্যবসায় ও আসক্ত কুদরত জেল থেকে হুমকি দিচ্ছে। অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। আমাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করছে। বসতবাড়ি জ্বালিয়ে আমাদের শেষ করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ কেন তাদের ধরছে না। বুঝতে পারছি না। আমাদের গোটা পরিবারের সব সদস্য সর্বক্ষণ একটা আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করছে। আমরা বাঁচতে চাই। প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আসামি গ্রেপ্তারে আমার চেষ্টা অব্যাহত আছে। দ্র্তই গ্রেপ্তার করতে পারব।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares