Main Menu

১২ মেডিকেল কলেজের অনুমোদন বাতিল

+100%-

অনুমোদন পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না…

ডেস্ক ২৪ : সর্বশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত ১২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রক্রিয়াটি নতুনভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অভিযোগ আছে, এই কলেজগুলোর অনুমোদন হয়েছিল অনিয়মের মাধ্যমে। বিগত সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি কলেজগুলোর অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। অনুমোদনের বিনিময়ে আছে মোটা অংকের উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ।
মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর সূত্র নিশ্চিত করেছে, এসব কলেজ অনুমোদনের পূর্ব শর্তগুলো ঠিকভাবে পূরণ করেনি। কয়েকটি ক্ষেত্রে একটুখানি জায়গার ওপর একটি ভবন থাকলেই মেডিকেল কলেজ অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সামনে টানিয়ে দেয়া হয়েছে বড় সাইনবোর্ড। নতুন অনুমোদিত অধিকাংশ কলেজেই মেডিকেল শিক্ষার্থী পড়ানোর মতো ল্যাবসুবিধা, অবকাঠামো এবং সর্বোপরি মানসম্পন্ন শিক্ষক নেই।
বেশ কয়েকটি নতুন কলেজ অনুমোদনের নেপথ্যে বর্তমান বিএমএ ও স্বাচিপের কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতা আছে। চিকিৎসক রাজনীতিতে প্রভাব আছে এমন কয়েকজন সংসদ সদস্য ও নেতার প্রভাবও আছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যে কোনো মেডিকেল কলেজ অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিদর্শন টিম গিয়ে সুবিধাদি যাচাই করে দেখার নিয়ম। এই ১২টি কলেজের ক্ষেত্রে ‘উপর মহলের’ অদৃশ্য চাপে যাচ্ছেতাই প্রতিবেদন দিতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন টিম।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানাচ্ছে, মঙ্গলবার বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন, আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব, শিক্ষার্থী ভর্তিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র নিশ্চিত করেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ১২টি কলেজের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এরপরই কলেজগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘কলেজগুলো অনুমোদনে ‘ল্যাপস’ (ঘাটতি) আছে বলে প্রতীয়মান হয়। মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি অনুমোদন প্রক্রিয়া যাচাই করবে।’ তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রী এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।
১২ কলেজ : গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই ১২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ৩টি কলেজের অবস্থান ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে। এ গুলো হচ্ছেÑ ১) মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম। ২) পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ, সিলেট। ৩) আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ। ৪) আদ-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ, খুলনা। ৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ৬) সিটি মেডিকেল কলেজ, খুলনা। ৭) কসির উদ্দিন মেডিকেল কলেজ, রংপুর। ৮) কেয়ার মেডিকেল কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। ৯) ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ, মহাখালী, ঢাকা। ১০) ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ, গুলশান, ঢাকা। ১১) শাহ মাখদুম মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী ও ১২) ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।
সূত্রগুলো বলছে, এই কলেজগুলোর মধ্যে কয়েকটি চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই ছাত্রছাত্রী ভর্তির তোড়জোড়ে নেমেছে। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে পদস্থরা বলেছেন, অনুমোদন পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।
ডিজির দফতর অন্ধকারে! : নিয়ম অনুযায়ী নতুন কলেজ অনুমোদনের নীতিনির্ধারণী বৈঠক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অধিদফতরের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা অনুষদ প্রতিনিধিসহ অন্যরা থাকেন। কলেজ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অধিদফতরের মহাপরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা শাখার পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত নেয়ার রেওয়াজ আছে। ইতিপূর্বে সেভাবেই করা হতো।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত এক বছরে নতুন কলেজ অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো চিঠির অনুলিপি ওই দফতরে পৌঁছেনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে সূত্রটি বলেছে, মন্ত্রণালয় তো কেবল অনুমোদন দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে ফেলে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এজেন্সি হিসেবে কাজ করে অধিদফতর। অথচ অধিদফতরের ডিজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অন্ধকারে থাকেন!
জানতে চাইলে মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার সিফায়েত উল্লাহ বলেন, সুনির্দিষ্ট আইন ছাড়া বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সুষ্ঠু পরিচালন সম্ভব নয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় পৃথক আইন আছে। তাহলে এখানে কেন নয়? তিনি নিশ্চিত করেন, ‘নতুন কলেজ অনুমোদনের অনুলিপি পাইনি।’
সূত্রগুলো বলছে, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ে আহূত এক বৈঠকে তড়িঘড়ি করে ১২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। অভিযোগ মতে, কলেজগুলো অনুমোদন পেয়েছিল ব্যক্তিবিশেষের ইচ্ছায়। ‘উপর মহল’ থেকে ফোনে বলে দেয়া হয়েছিল কলেজ পরিদর্শন টিমের প্রতিবেদন হবে ‘ইতিবাচক’। ওই সময় ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে গিয়েছিল সংশ্লিষ্ট টিম। ঘটনাচক্রে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে পরিদর্শন টিমের এক শীর্ষস্থানীয় সদস্য বলেছিলেন, ‘তার কাছে ভালো মনে হয়নি।’ এমন উদাহরণ আরও আছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আরো জানান, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর পক্ষ থেকে ভর্তির নম্বর কমানোর আবেদন থাকলেও তা নাকচ করে দেয়া হয়েছে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares