Main Menu

সন্ত্রাস থেকে রক্ষা পেতে থানার সামনে অবস্থান

+100%-

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষা পেতে গতকাল বুধবার থানার সামনে অবস্থান নেন।


থানায় আসা ওই সব নারী-পুরুষের অভিযোগ, হত্যা মামলার এক আসামি ও তাঁর বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁরা প্রতিকার চাইতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে আসতে বাধ্য হয়েছেন।


প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিদ্দিক মিয়া ও আলীয়াবাদ গ্রামের জহিরুল হক সর্দারের নেতৃত্বে ওই গ্রামের সওদাগরপাড়ার শতাধিক নারী-পুরুষ সকালে থানার সামনে আসেন। তাঁরা অভিযোগ জানাতে ওসির জন্য অপেক্ষা করেন। থানায় আসা কয়েকজন নারী এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন, ‘কয়েক মাস ধইরা গ্রামের বাসিন্দা হত্যা মামলার আসামি জুনাইদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হইয়া পড়ছি। জুনাইদ তার বাহিনী লইয়া প্রায় প্রতি রাইতেই আমাদের কাছে আইসা টেহা-পয়সা চায়। টেহা-পয়সা না দিলেই আমাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে।’


থানায় আসা আরেক নারী অভিযোগ করেন, ‘জুনাইদ বাহিনীর ডরে রাইতে মাইয়াগো (মেয়েদের) অন্যের বাড়িতে রাইখ্যা আসি। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কবল থেকে আপনেরা আমাদেরকে জলদি বাঁচান, ভাই।’


ছিদ্দিক মিয়া ও জহিরুল হক সর্দার বলেন, ‘জুনাইদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বহু ঘটনা তাঁর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেনের (উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য) কাছে নালিশ কইরাও কোনো লাভ হয় নাই। তাই গ্রামের লোকজন এর প্রতিকার চাইতে শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে থানার ওসির কাছে লইয়া আসতে বাধ্য হইছে।’


এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার ছেলে একটি হত্যা মামলার আসামি। তাই সে গ্রামে থাকে না। তবে আমার ছেলের বিরুদ্ধে গ্রামের যারা থানায় নালিশ করতে গেছে, তারা খুবই নিরীহ মানুষ। ছেলেকে পেলে আমি নিজেই তার কঠিন বিচার করব।’


নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর বলেন, হত্যা মামলার আসামি জুনাইদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে বলে আশা করা যায়।