Main Menu

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের যৌন হয়রানির শিকার

+100%-

নিজস্ব সংবাদদাতা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের অন্তত ১০ শিক্ষার্থী ওই ব্যক্তির নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লোকলজ্জার ভয়ে অভিভাবকরা বিষয়টি চেপে গেছেন।

সর্বশেষ গত সোমবার দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী তার দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয় বলে এলকাবাসী জানিয়েছে। সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। আজ সোমবার এ নিয়ে এলাকায় সালিশ বসবে।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের পীর সৈয়দ বাহাউদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অভিযোগের ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।

শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামে গেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনেকেই অভিযোগ করেন।

এলাকাবাসী ও স্কুল শিক্ষার্থীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনেন। এরপর আকলিমার ওপর যৌন নির্যাতন চালান। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জেনে ওই শিশুকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

এ ঘটনায় চাঁনপুর গ্রাম প্রতিরক্ষা ক্লাবে একাধিক সভা হয়। সভায় রফিকুল ইসলাম তার অপকর্মের কথা স্বীকার করে এ ধরণের ঘটনা পুণরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার করেন।

মেয়েটির খালু জানান, বাবা প্রবাসে থাকেন ও মা নতুন চাকরিতে যোগদান করেছেন বলে সে কিছুদিন আগে নিজের বাড়ি কুমিল্লা থেকে আখাউড়ায় চলে আসে। স্কুলে ভর্তি হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় ওই শিক্ষক তার ওপর নির্যাতন চালায়। এখন গ্রামের লোকজন বিচার করে দিবেন বলায় তারা থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেননি।

পীর সৈয়দ বাহাউদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম এ রইছ উদ্দিন বলেন, ’ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। এখন আমরা চিন্তা করছি কিভাবে তাকে স্কুল থেকে বহিস্কারের ব্যবস্থা করা যায়। এ বিষয়ে মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।’

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো শাহ আলম বলেন, ’পরিবার ও এলাকার লোকজন মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। মেয়েটির শরীরে কামড়ের চিহ্ন আছে’।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের এক সদস্যের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে শুক্রবার কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে তিনি লাইন কেটে দেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অংসা থোয়াই বলেন, “এই রকম কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।”






Shares