Main Menu

রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের আক্ষেপ ৫৫ বছরের রাজনীতিকেই কলুষিত করলো এপিএস স্ত্রীর মানাও শুনেননি তিনি

+100%-
বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে যার নাম সমধিক পরিচিত। সভা-সেমিনারে যে নামটি বলার আগে উপস্থাপক নানা বিশেষণে তাকে আখ্যায়িত করতেন, তার একটি হচ্ছে-‘উপ মহাদেশের প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান’। জাতীয় সংসদে যার বক্তব্য শোনার জন্য সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। জীবনের শেষ বয়সে এসে মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করার ৫ মাসের মধ্যেই অনলবর্ষী সেই বক্তা রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ইমেজ সংকটে পড়েছেন। তাও আবার বিশ্বস্ত এপিএসের কারণে। পত্র-পত্রিকার ফলোআপ সংবাদের দিকে তাকিয়ে বিষন্ন মনে সুরঞ্জিত সেন বার বার শুধু বলছেন, ‘আমার ৫৫ বছরের রাজনীতিকেই কলুষিত করলো বহিস্কৃত এপিএস ফারুক’। সূত্র জানায়, স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত পছন্দ করতেন না ওমর ফারুককে । অতিথিপরায়ণ জয়া স্বামীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো কোন কাজে হস্তক্ষেপ করেননি। কিন্তু ফারুককে বিদায় করে দিতে বার বার স্বামীকে অনুরোধ করেছেন- শুনেননি তিনি। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন তার নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ডালটন তালুকদার। বর্তমানে তিনি লন্ডনে বার-এট-ল করছেন। ওমর ফারুক ছিলেন তার পরিচিত। যাওয়ার আগে ফারুককে তিনি সুরঞ্জিতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে যান। ডালটন লন্ডনে যাওয়ার পর সুরঞ্জিত সেন তাকে দিয়ে বিভিন্ন ফুটফরমায়েশ করাতেন। একপর্যায়ে ফারুক সুরঞ্জিত সেনের কাছে নিজেকে বিশ্বস্ত করে তোলে। এপিএস দায়িত্ব পালন করে কোন বেতনও পেতেন না। তাই পরিবার চালাতে অধুনালুপ্ত আজকের কাগজ পত্রিকায় জুনিয়র সাব এডিটর পদে খন্ডকালীন চাকরি করতেন। সেই ফারুক এখন কোটিপতি। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওমর ফারুককে এপিএসের দায়িত্ব দেন। কিন্তু স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত কখনোই তাকে সহ্য করতে পারতেন না বলে সূত্র জানায়। এক সময় এমনই অবস্থা ছিল যে জয়া সেনগুপ্ত বাসায় থাকলে ফারুক জিগাতলার বাসায়ই যেতে সাহস পেতেন না। অনেকে অবশ্য এর জন্য সুরঞ্জিত সেনকেই দায়ী করছেন। কারণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বার বার তার এপিএসকে শেষ রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি সুরঞ্জিত সেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যক্তিগত টাকা বহনের দেশীয় আইনের অধিকারের কথা বলে তার সংশ্লিষ্টতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বলে মনে করছেন বিশিষ্ট জনরা। আবার অনেকে বলেছেন, তার এপিএস বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত টাকা রাখার জন্য আর্থিকভাবে সাবলম্বী কিনা তা তিনি অবশ্যই জানতেন। রেলওয়ের দুই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কেন রাতের আধারে তার বাসার উদ্দেশ্যে যাবেন তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। গতকাল দুটি পত্রিকা বহিস্কৃত এপিএস ফারুকের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছে, এই টাকা নিয়ে রেলওয়ের দুই কর্মকর্তাসহ মন্ত্রীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি (ফারুক ) যাচ্ছিলেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে মন্ত্রী বলেছেন, মানুষ বিপদে পড়লে কত কিছুইতো বলে। ষাটের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা সুরঞ্জিত রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সামরিক শাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ যখন ক্ষমতায়, তখন মেধা ও প্রজ্ঞার পরিচয় পেয়ে তাকে মন্ত্রীত্ব গ্রহণের আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন। পূর্ণ গণতন্ত্রের দাবিদার এবং ওই স্বৈরাচার খেদাও আন্দোলন করে রাজপথ প্রকম্পিত করা তৎকালীন গণতন্ত্রী পার্টির নেতা সুরঞ্জিত মন্ত্রীত্ব গ্রহণের সেই আহবান অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। নীতি আর আদর্শই যার সঙ্গী, সেই মানুষটি জীবনের শেষ বয়সে এসে যে কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়েছেন তা তার কর্মীদের অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। জীবনের অধিকাংশ সময় বাম রাজনীতিতে কাটিয়ে ’৯৫ সালে আওয়ামী লীগের ছায়াতলে এসে দলের প্রেসিডিয়ামের সদস্য হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য। এর আগে তিনি বিভিন্ন বাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৭ বারের এই প্রবীণ সংসদ সদস্যের কাছে দীক্ষা নিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন এমন সাংসদের সংখ্যাও কম নয়। ৭ম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভায় নিজের নাম তালিকায় না পেয়ে যেমনি হতাশাগ্রস্ত ছিলেন,তেমনি মন্ত্রীত্ব পাবেন সেই আত্মবিশ্বাসও ছিল রাজনৈতিক দূরদর্শী এই নেতার। দিরাই-শাল্লায় নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্য দেয়ার সময় দরাজ গলায় সুরঞ্জিত বলেছেন, ‘আপনাদের প্রতিনিধিকে বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কৃত করবেন’। শেখ হাসিনা তার সরকারের মধ্যবর্তী সময়ে এসে সুরঞ্জিতকে পুরস্কৃত করেছেন ঠিকই কিন্তু একজন বিশ্বস্ত এপিএস আর নিজ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বিতর্কিত শীর্ষ কর্মকর্তাদের কারণে হচ্ছেন সমালোচিত। গতকাল বৃহস্পতিবার রেলভবনে আয়োজিত জরুরী এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আকষ্মিকভাবে ক্যামেরা দাঁড়িয়ে গেল। এতেও অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তিনি বলেন, আমি রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রবীণ, দুর্নীতির সঙ্গে আমি কোনো আপস করিনি। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের শাস্তি হবে, তাদের বিচার হবে। রাজনীতিকে সম্পদ করার হাতিয়ার হিসেবে কখনো দেখেননি এমন দাবি করে সুরঞ্জিত বলেন, রেলওয়ের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধচক্র ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় আমার এপিএসের টাকা আটকের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে কষ্টে আছেন জানিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, আমি আজীবন তীর ছুঁড়েছি, এখন তীরবিদ্ধ করা হচ্ছে। আশা করছি সত্যের জয় হবে। View this link






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares