Main Menu

নারী তেঁতুল নয়, মর্যাদা ও মাতৃত্বের প্রতীক

+100%-

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকে সুন্দর, মায়াময় ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী নির্মাণে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। সম্মান, মর্যাদা ও মাতৃত্বের প্রতীক সেই নারী জাতির ইসলাম প্রদত্ত অধিকার, দায়িত্ব ও কর্মপরিধিকে আজ চরম অশ্লীল ও অশালীন ভাষায় কটাক্ষ করা হচ্ছে। তাদের ইজ্জত-আব্রু ও সম্ভ্রম নিয়ে জঘন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসবই করা হচ্ছে ধর্মীয় উপদেশ, ইসলামী ওয়াজ আর বয়ানের নামে। সাম্প্রতিক সময়ে মায়ের জাত মহিলা সম্পর্কে হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীর একটি ভিডিও বক্তব্য দেশের সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা, ধিক্কার, নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের বক্তব্য কোনো কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির হতে পারে না, অসুস্থ মানসিকতাসম্পন্ন লোকের পক্ষেই কেবল এমন প্রলাপ বকা সম্ভব। তার এ বিভ্রান্তির সর্বশেষ প্রামাণ্য দলিল হলো সাম্প্রতিক প্রকাশিত ও হাটহাজারী ঈদগাহ ময়দানে প্রদত্ত তারই মুখনিসৃত সেই ওয়াজের ভিডিও; যাতে জঘন্য ভাষায় অশ্লীল শব্দাবলী প্রয়োগে নানান অপবাদ আরোপ করে দেশের নারীসমাজকে চরমভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। তার এ বক্তব্য কোনোমতেই ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে না। ওয়াজ বা নসিহতের পর্যায়েও পড়ে না। বরং তা সর্বতোভাবে নিন্দনীয় ও পরিত্যাজ্য। আমরা পবিত্র ইসলামের অবস্থানটি পরিচ্ছন্ন রাখতেই কলম ধরেছি।

আল্লাহ বলেন, ‘মা খালাক্তুল জিন্না ওয়াল ইন্সা ইল্লা লিয়াবুদুন’ অর্থাৎ আমি মানুষ আর জিন জাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। এখানে মানুষ বলতে নারী-পুরুষকে আলাদা করা হয়নি; বরং নারী ও পুরুষের সমন্বিত সত্তাকেই বোঝানো হয়েছে। পবিত্র কোরআনে অজস্র স্থানে আল্লাহপাক ‘ইয়া আইয়ুহান্নাস’ অর্থাৎ ‘হে মানবসকল’ বলে সম্বোধন করেছেন। কোথাও তিনি নারীকে আলাদা করেননি বা বাদ দেননি। এমনকি নারী জাতির মর্যাদাকেও খাটো করেননি। বরং কখনো তিনি পুরুষের চেয়ে নারীর মর্যাদাকে উচ্চাসনে স্থান দিয়েছেন। যেমন- মহীয়সী নারী হজরত মারইয়াম সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন- ‘ওয়ালাইসায্ যাকারু কাল্ উন্সা’ অর্থাৎ কোনো কোনো পুরুষ মর্যাদার দিক থেকে কোনো কোনো নারীর সমান বা সমকক্ষ নয়। কোরআনে কারিমে নারীদের নামে সূরা নেসার মতো স্বতন্ত্র সূরার নামকরণ করে আল্লাহপাক নারী জাতির সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি কোনো নির্দিষ্ট মহিলার নামেও তিনি সূরার নামকরণ করেছেন; সূরা মারইয়াম তার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। সর্বপ্রথম ইসলাম কবুলকারী হলেন একজন নারী (হজরত খাদিজা), ইসলামের ইতিহাসে প্রথম শহীদ একজন নারী (হজরত সুমাইয়া)। পৃথিবীর ইতিহাসে বিখ্যাত নারীগণের মধ্যে হজরত হাওয়া, হজরত আছিয়া, হজরত রহিমা, হজরত মারইয়াম, হজরত খাদিজা, হজরত আয়েশা ও হজরত ফাতেমার মতো বিরল গুণাবলীসম্পন্ন মহীয়সী নারীগণ অন্যতম। যারা আদর্শ, মমতা, ত্যাগ ও মহানুভবতার স্বর্গীয় দ্বার উন্মোচন করে বিশ্বে নজির স্থাপন করেছেন।

নারী-পুরুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য মহান আল্লাহর বাণী হলো- ‘হুন্না লিবাসুল্লাকুম ওয়া আনতুম লিবাসুল্লাহুন্না’ অর্থাৎ তোমরা একে-অন্যের পোশাক-পরিচ্ছদস্বরূপ। এ বাণীর মাধ্যমে নারী ও পুরুষ একে-অন্যের সম্পূরক বা পরিপূরক, তা-ই বোঝানো হয়েছে। নৈকট্য ও ঘনিষ্ঠতার দিক থেকেও উলি্লখিত আয়াতে কারিমা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আল্লাহপাক আরও বলেন, ‘আমি তোমাদের মধ্য থেকে কোনো কর্মনিষ্ঠ পুরুষ অথবা নারীর আমল ব্যর্থ করব না; বরং তোমরা একে-অপরের অংশ।’ এ আয়াতেও আল্লাহতায়ালা নারীকে পুরুষের মতোই সৃষ্টির অনিবার্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। একজন পুরুষ নেক আমল করলে যে সওয়াব হাসিল করবে, একজন নারী কোনো অংশেই তার চেয়ে কম পুণ্য অর্জন করবে না।

আল্লাহপাক বলেন, ‘হে মানবমণ্ডলী, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদের একটিমাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সহধর্মিণী সৃষ্টি করেছেন এবং তারপর তাদের উভয়ের মাধ্যমে পৃথিবীতে অসংখ্য নারী-পুরুষ সৃষ্টি করেছেন।’ এ আয়াতের মাধ্যমে নারী-পুরুষ সৃষ্টিগতভাবেই যে সমমর্যাদা সম্পন্ন সে বিষয়টি প্রতিভাত হয়েছে। নারী-পুরুষের সম্পর্ক, যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেন, ‘মমিন পুরুষ ও মমিন মহিলা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু ও সহযোগী।’ ইরশাদ হচ্ছে- ‘যখন তোমরা নামাজ সম্পন্ন করবে পরক্ষণেই বিস্তৃত ভূমিতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর দেওয়া রিজিক অন্বেষণ কর।’ এ আয়াতে কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে আয়-রোজগারের জন্য নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে আল্লাহপাক সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং পেশাগত সব দায়িত্ব পালনেও নারীর পূর্ণ অধিকার রয়েছে। মহীয়সী মারইয়ামের মতো নারী পৃথিবীতে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, রানী বিলকিসের মতো নারী পৃথিবীকে শাসন করেছেন এবং হজরত আয়েশার মতো নারী সম্মুখ সমরে তথা উষ্ট্রের যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাপসী রাবেয়া বসরির মতো নারী পাষণ্ড মনিবের নির্যাতনে নিপিষ্ট হয়েছেন; খোদাপ্রেমের উজ্জ্বল উদাহরণ রেখে গেছেন। আজ গণহারে ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে, ধর্মভীরু সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা-ভক্তিকে পুঁজি করে, ইসলামের নীতি-বিধানসমূহের অপব্যাখ্যা প্রদানে নারী জাতিকে অপমান করলে আমাদের নারী সমাজের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়। শাহ আহমদ শফীর বক্তব্য সে রকম একটি অপপ্রয়াস বলেই প্রতীয়মান হয়। সাম্প্রতিক প্রকাশিত আহমদ শফীর ভিডিও বক্তব্যে নারীদের পড়াশোনা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের অধ্যয়ন, নারী শিক্ষার সীমা ও কুফল, নারীকে তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা ও তার চেয়েও খারাপ আখ্যায়িত করা, মেয়েদের কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সমালোচনা, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরির নামে জেনা-ব্যভিচারের মাধ্যমে টাকা রোজগার করা, নারী দেখলেই কুখেয়াল আসা, বিয়ে করতে ইচ্ছে হওয়া, কুখেয়াল না আসলে বা বিয়ে করতে ইচ্ছে না হলে ধ্বজভঙ্গ রোগী হিসেবে আখ্যা দেওয়া, পারলে তিনটা, চারটা পর্যন্ত বিয়ে করা, মোবাইল ব্যবহারের নিন্দা- ইত্যাকার নানান বিষয় অশালীন শব্দ যোজনায় ও অশ্লীল বাক্যবিন্যাসে বিবৃত হয়েছে। এর মধ্যে এমন কথাও রয়েছে, যাতে সাধারণ বিবেক ও মনুষ্যত্ববোধের পরিচয় খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর। তিনি বলেছেন, আমাদের গার্মেন্ট শিল্পে কর্মজীবী মহিলারা নাকি জেনার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসার পরিচালনা করেন; এ জন্য আয়-রুজিতে কোনো বরকত নেই। নিদেনপক্ষে সামান্যতম মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা থাকলে এমন অসহায়, কর্মনিষ্ঠ, নিরন্ন, পরিশ্রমী ও উদ্যমী নারী শ্রমিকদের ব্যাপারে এরকম নোংরা কথা বলা যায়? আমভাবে নারী শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র ও তাদের চরিত্র নিয়ে এভাবে কথা বলা কি কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য? না জেনে, না দেখে, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ না থাকলে কারও চরিত্রকে কলুষিত করার জন্য এ ধরনের বক্তব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ এবং পবিত্র কোরআনের ভাষায় তা ‘বুহতান’ বা অপবাদ আরোপের নামান্তর। গণহারে সবার চরিত্রে কলঙ্ক লেপনের এই অপপ্রয়াসের মাধ্যমে হেফাজত নেতা ধর্মীয় ও মানবিকতা- উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে বুহতানের যে শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে, তার ওপর সেটি প্রযোজ্য বলে আমরা মনে করি।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ইসলামের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান উপকরণ। পবিত্র কোরআনের সর্বপ্রথম নাজিলকৃত আয়াতে শিক্ষার কথাই বলা হয়েছে। রাসূলে কারিম (সা.) বলেছেন, ‘সব মুসলিম নর-নারীর ওপর জ্ঞানার্জন ফরজ।’ শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনকে ইসলাম কখনো অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত করেনি; বরং মানুষ, মানবতা আর মনুষ্যত্ববোধের অপরিহার্য অঙ্গ এই শিক্ষাকে ইসলাম সব সময় অবধারিত বা অবশ্য কর্তব্য তথা বাধ্যতামূলক বিষয়ের মর্যাদায় গুরুত্ব দিয়েছে। সে কারণেই সর্বজনীন ধর্ম ইসলাম কখনো শিক্ষাকে পুরুষ বা নারীর জন্য কোনোরূপ সীমাবদ্ধতা আরোপ করেনি; বরং একজন পুরুষের যেমন শিক্ষার অধিকার রয়েছে, একজন নারীরও তদ্রূপ শিক্ষার অধিকার থাকবে। বিষয়টি এমন নয় যে, নারী শুধু স্বামীর সম্পদ হিসাব-নিকাশ করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু লেখাপড়া করবে, আহমদ শফী তার বক্তব্যে সেরকমই বলেছেন; এটি তার নেহাতই অজ্ঞতাপ্রসূত মন্তব্য। নারীরা কেন উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করবে না, কোথায় বাধা রয়েছে, ইসলামের কোথায় নিষেধ রয়েছে? তাহলে নিজের মনগড়া কোনো কথা ইসলামের বলে চালিয়ে দেওয়া কি সমর্থনযোগ্য? আসলে জগৎ, জীবন, সংসার ও সমাজ-সভ্যতাকে তিনি যেভাবে দেখেছেন, তা একটি সুনির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরে আবদ্ধ; এর বাইরে যাওয়া, বাস্তবতা উপলব্ধি করা, বিশ্বব্যবস্থা ও এর পরিচালনা বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হলে গতানুগতিকতার বাইরে একটি উন্নত মানসিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ থাকা প্রয়োজন। সে বিষয়ে হেফাজত নেতার শিক্ষা, মনন ও মানসিকতায় প্রচুর ঘাটতি রয়েছে।

একটি স্বাধীন-সার্বভৌম জাতি-রাষ্ট্রে শিক্ষাব্যবস্থা থাকে; শিক্ষার নীতিমালা থাকে। সেরকম জাতীয় নীতিমালা বা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের দেশে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন-পরিবর্ধন বা যে কোনো উন্নত নীতি-নিয়ম সংযোজন সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে অবশ্যই সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি। শিক্ষার মানোন্নয়নে যুগোপযুগী সুপারিশমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সময়ের প্রয়োজনেই এসব ইতিবাচক পরিবর্তনসমূহ চলতে থাকবে। কিন্তু হেফাজত নেতা তার বক্তব্যে আমাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন, তাদের চলাফেরা, আচার-অনুষ্ঠান, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মেলবন্ধনকে যে ভাষায় সমালোচনা করেছেন, তাতে তাকে কোনো সুস্থ মানুষ বলে মনে হয় না। তিনি বলেছেন, ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে চলাফেরার কারণে আজ ছেলেরা নিজেদের যৌনক্ষমতা নিঃশেষ করে ফেলেছে। তার ভাষায় বীর্য শেষ করে ফেলেছে, তাই বিয়ের পর আর কিছু পারে না। যে কারণে নাকি আজ জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কি বিস্ময়কর আবিষ্কার! তিনি কি করে বুঝলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সব তরুণ-যুবক তাদের যৌবনশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। আলেম তো দূরের কথা, কোনো রুচিসম্পন্ন ভদ্রলোক এ ধরনের নোংরা কথার বেসাতি গেয়ে ওয়াজ করতে পারে? এর মাধ্যমে হেফাজত নেতা আমাদের তরুণ প্রজন্মকেই অপমান করেছেন; তাদের নৈতিকতায় আঘাত করেছেন এবং তরুণদের বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের চরিত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন হেফাজত নেতা তার ঘরানার কওমি মাদ্রাসাগুলোতে অহরহ ঘটে যাওয়া অনৈতিক ঘটনাগুলোর কোনো সুরাহা করতে পেরেছেন কি? স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রায়শই এসব প্রতিষ্ঠানে শিশু-কিশোর কোমলমতি ছাত্রদের সঙ্গে গুরুদের সমকামিতার যেসব মারাত্দক অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছে, তার কোনো একটিও কি তিনি খতিয়ে দেখেছেন? তাই আমরা বলি, আগে নিজের ঘর ঠিক করুন, নিজের ও পরিবারে সংশোধন আনুন, স্বীয় ঘরানার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহে স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতা আনুন, যেসব ভয়াবহ মহামারী রয়েছে, গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তি করুন। তারপর অন্যদের প্রতি নসিহত ও সমালোচনার কিছুটা ধর্মীয় অধিকার আপনার থাকবে। মহান আল্লাহর ঘোষণা- ‘কু আনফুসিকুম ওয়া আহলিকুম নারা’ অর্থাৎ তুমি নিজে ও তোমার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও’ এ অনুযায়ী আগে নিজের ঘর, পরিবার ও প্রতিবেশী থেকে শুরু করুন; বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়টি এ থেকে অনেক ঊধের্্ব, সেখানে পেঁৗছতে হলে আরও বেশি পড়াশোনা, তপস্যা, সাধনা এবং আরও উন্নত মেধা-মননশীলতা ও উদারচিত্ত আর বড় মনের অধিকারী হতে হবে।

নারীকে ইসলাম যে অধিকার দিয়েছে পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্ম-দর্শন সে অধিকার দেয়নি। ইসলামের আবির্ভাবকালীন সময়ে নারীদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না, অর্থনৈতিক অধিকার স্বীকৃত ছিল না, এমনকি কন্যাসন্তান জন্মলাভের পর তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বিআইয়ি যান্বিন কুতিলাত’ অর্থাৎ ‘কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে’ এই মর্মে তাকে কেয়ামত দিবসে জিজ্ঞাসা করা হবে। নারীদের প্রতি দাসীর মতো আচরণ করা হতো, কেবল ভোগের পণ্য হিসেবে নারীকে ব্যবহার করা হতো; নারীর নূ্যনতম অধিকার ও মর্যাদা যে সমাজে স্বীকৃত ছিল না, মহানবী (সা.) সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজব্যবস্থায় নারীকে সব ধরনের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই দিয়ে, অবজ্ঞা আর অপমানের গভীর গর্ত থেকে নারীকে উঠিয়ে রানীর সিংহাসনে বসিয়ে দিলেন, মায়ের মর্যাদা প্রদান করলেন।

নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় সব অধিকার সুনিশ্চিত করলেন। কখনো কলিজার ঠুকরা কন্যা, কখনো প্রেমময়ী স্ত্রী, আবার কখনো মমতাময়ী মা হিসেবে ইসলাম নারীকে অভূতপূর্ব সম্মান ও মর্যাদার আসন দান করেছে। সেই নারীকে চরম গ্লানিকর, অপমানজনক, অবমাননাকর এবং অশ্লীল গালিতে যেভাবে অমর্যাদা করা হলো, তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর ভাষা আমাদের নেই। আমাদের নারীসমাজ ক্ষুব্ধ, সচেতন মহল বিস্মিত, মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ। এ যেন আরেক আইয়ামে জাহেলিয়াতের পদধ্বনি! কিন্তু আজকের এই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি আর প্রগতিশীলতার সন্ধিক্ষণে পশ্চাৎমুখিতার কোনো সুযোগ আছে? তাই আমরা চাই, এ ধরনের ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে যে বা যারাই সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে, শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চাইবে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উদ্ভব করবে- দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সমুচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সব উগ্রতা, গোঁড়ামি, অনগ্রসরতা ও অন্ধত্বের মূলোৎপাটন করা হোক।

লেখক : র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি, সম্পাদক, মত ও পথ।

ই-মেইল :  mukta[email protected]

ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন

গবেষক, লেখক ও শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল : [email protected]






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares