Main Menu

নাসিরনগরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ, আহত অর্ধ শতাধিক ও বাড়ি-ঘর লুটপাট,পলিশের ৮২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ

+100%-

মুরাদ মৃধা, নাসিরনগর সংবাদদাতাঃ  নাসিরনগরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘন্টার সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় লাখাই নাসিরনগর ও সরাইল মহাসড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নাসিরনগর থানা পুলিশ ৮২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামে। আশুরাইল গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মৃত জমাদার মিয়ার ছেলে কাজল মিয়া ও মৌলভী বাড়ির রহমত আলীর ছেলে হাজী সামছু মিয়ার মধ্যে ৭হাজার ৫শত টাকার লেনদেন নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হলে কাজল মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া আহত হয়। উভয় পক্ষকে থানায় বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে বলেন নাসিরনগর থানার এসআই কাউছার আহমদ। তবে কোন পক্ষই থানায় বসতে রাজি হয়নি বলে জানান এসআই কাউছার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজী সামছু মিয়া ও কাজল মিয়ার মধ্যে আর্থিক লেদদেন নিয়ে ২৩ মার্চ রাতে কথা কাটাকাটি হয়। পরের দিন সকাল ৮টার সময় সামছু মিয়ার লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে কাজল মিয়ার লোকজনদের উপর অর্তকিত হামলা করে। এ ঘটনা পুরো এলাকায় জানাজানি হলে শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংর্ঘষ। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে লাখাই-নাসিরনগর ও সরাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে বেশকিছু যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। পরে জেলা সদর থেকে দাঙ্গা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২০ গ্রামবাসীকে আটক করেছে।

কাজল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে আমাদের পক্ষের সকল লোকজন ছিল মাঠে। কেউ কৃষি কাজে ব্যস্ত ছিল কেউ ছিল গ্রামের বাজারে। বাড়িতে পুরুষ না থাকায় হাজী সামছুর লোকজন ঘর-বাড়ি লুটপাট,ভাংচুরসহ গৃহপালিত পশুকেও তারা পিটিয়ে আহত করে। নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের আবুল খায়ের অভিযোগ করে বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে আমি কাজল মিয়ার পক্ষের লোক নুরুউদ্দিন মেম্বারের বাড়িতে রাজমিস্ত্রীর কাজ করছিলাম। এমন সময় হাজী সামছু মিয়ার লোকজন আমার উপর হামলা করে। আশুরাইল গ্রামের চৌকিদার বাড়ির জাহাঙ্গির মিয়ার মেয়ে ফাতেমা বলেন আমার বাবা বাড়িতে নেই। আমার বাড়ি খালি পেয়ে আমার কান ও গলা হতে স্বর্ণের চেইন ও হাতের রুলি নিয়ে যায়। ইয়াছিন মিয়ার দুই মেয়ে লাভলি ও শমলাল বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার জমি বিক্রি করে ৭ লাক্ষ টাকা রেখেছিল চাউলের ড্রামে। তারা এ টাকা ও ঘরে থাকা ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। টাকা নেয়ায় আমার বাবা ষ্টোক করে এখন জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। ওই গ্রামের একজন কবির মিয়া। সিএনজি চালিয়ে তার সংসার চলে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি কোন পক্ষের সাথেই জড়িত না। আমায় না পেয়ে ঘরে থাকা আমার গবাদী তিনটি পশু(গরুকে)পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে জখম করে।
হাজী সামছু মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে সে এ প্রতিবেদককে জানায় আমি টাকা পাই কাজল মিয়ার কাছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার লোকদের সাথে তর্কাতর্কি হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে কাজল মিয়ার পক্ষের কাজল(৪৫) রিমন(২০) রহুল আমিন (৫০) সোহাগ (২৫) ফাইজুল(৩৫) নজু মিয়া(৪৫) মহিউদ্দিন(২২) শাহেদুল(২৮) মারাত্বক ভাবে আহত হয়েছে। অপরদিকে হাজী সামছু মিয়ার পক্ষে কাইছার(৪৮) সুমন মিয়া(২৫) আজাহারুল(৩০) জালাল(৩৫) মিজান (৪০) আহত হয়।

সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরির্দশনে আসেন সরাইল সার্কেল মনিরুজ্জামান ফকির ও নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল কবির। সরাইল সার্কেল মনিরুজ্জামান ফকির এ প্রতিনিধিকে জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৮২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় মামলা করেনি।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares