Main Menu

চির ভাস্বর এই স্বাধীনতা … বাংলাদেশ আমার অহংকার

+100%-

২৬ মার্চ বুধবার মহান স্বাধীনতা দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল অবিস্মরণীয় একটি দিন। আমাদের জাতীয় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন স্বদেশভূমির স্বাধীনতা। পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচন ও এই স্বাধীনতার অভ্যুদয়ে বাঙালি জাতি মুক্তির মহা মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে গেছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে; ৫২, ৫৪, ৬২, ৬৬ আর ৬৯-এর রক্তঝরা মহান গণঅভ্যুত্থানের পথ পেরিয়ে ৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় সবই বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামী ইতিহাসের একেকটি মাইলফলক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচন ও এই স্বাধীনতার অভ্যুদয়ে সাহসী, দৃঢ়চেতা, আপোসহীন নেতৃত্ব ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে অনুপ্রাণিত হয়ে জেগে উঠেছিল একটি নিপীড়িত পরাধীন জাতি। দেশের মানুষকে স্বাধীনতা ও মুক্তির অদম্য স্পৃহায় তিনি ঐক্যের দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল- দীর্ঘ নয় মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা হয়।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ইতিহাস খুব বেশী দিনের নয়। ব্রিটিশদের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করে মার্কিনরা প্রথম দীর্ঘ যুদ্ধের মাধ্যমে জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করল। সেটা ১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই। সেই থেকে শুরু স্বাধীনতা দিবস উদযাপন। স্বাধীনতা এমন এক শক্তি যা একটি জাতিকে তার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়ার জন্য অপরিহার্য সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। নিজের ভেতরকার অফুরন্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে এর কোনো বিকল্প নেই। অপরদিকে, স্বাধীনতা হীনতায় কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে বেড়ে ওঠে না। রবং সে দুর্বল, হীন এবং পঙ্গু হয়ে যায়। বিশ্বের স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশগুলোর প্রায় সবাই স্বাধীনতা লাভের ২০-৩০ বছরে মধ্যে অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে সমৃদ্ধির চরম শিখরে পৌঁছে গেছে। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ। আমরা স্বাধীনতা অর্জনের ৪৩ বছর পরও অর্থনৈতিকভাবে দাঁড়াতে পারিনি। পারিনি সম্মানজনক কোনো রাষ্ট্র নির্মাণ করতে। যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য বাঙালি স্বপ্ন দেখেছিল সেই স্বপ্ন পূরণ তো দূরে থাক রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দলগুলো বরং ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। ধর্মের ব্যবহার বা অসাম্প্রদায়িকতাই যেন আজ রাজনৈতিক দলের মূল উপজীব্য। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নেই কোনো আদর্শের চর্চা। রাজনীতিতে ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’ তত্ত্বের যেন পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে ‘দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়’। এই কথাটি আজ রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই জানে। তারপরও বস্তা পচা রাজনীতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

জনগণ একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে দিনের পর দিন অতিবাহিত করছে। আমাদের ছাত্র রাজনীতির গৌরবজনক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। জন্ম নিয়েছে ধ্বংসাত্মক, হিংসাত্মক শিক্ষা বিবর্জিত ছাত্র রাজনীতি। ছাত্র রাজনীতি আজ কলঙ্কিত এক অধ্যায়। অথচ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে উনসত্তুর, একাত্তুরে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা ছিল গৌরব করার মতো। ছাত্র রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতি দুটিই আজ গভীর সংকটে ভুগছে। শোষণ-বৈষ্যমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও চরম অর্থনৈতিক বৈষ্যমের শিকার আজ দেশের মানুষ। একদিকে ধনিক শ্রেণী। যাদের সম্পদের কোনো অভাব নেই। অন্যদিকে গরিব শ্রেণী। যাদের শিক্ষা নেই, চাকরি নেই, রুজি-রোজগার নেই, চিকিৎসা নেই, আবাসন নেই, নিরাপত্তা নেই, অভাব ছাড়া কিছুই নেই। সমাজ এখন অসম দুটি ভাগে বিভক্ত। বৃহত্তর দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্রতর ধনিক শ্রেণী। বাহ্যিকভাবে হয়তো এই দুই শ্রেণীর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চোখে পড়বে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ তৈরী হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে বৈষম্য তত বাড়ছে, ক্ষোভও বাড়ছে একইভাবে। রাষ্ট্র পরিণত হচ্ছে এক অমানবিক ব্যবস্থাপনায়।

আমরা কি পারি না এমন কোনো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে যেখানে থাকবে না মানুষের হাহাকার, কষ্ট, দুঃখ, শোষণ, বঞ্চনা, ধনী-গরিবের ব্যবধান। আমরা তো এখন স্বাধীন। আসুন কেউ কেউ নয়, সবাই মিলে ভাল থাকি। স্বাধীনতাকে সার্থক করি। আগামী প্রজন্মের জন্য মর্যাদাশীল সুখী সমৃদ্ধ দেশ হোক আমাদের অঙ্গীকার।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares