Main Menu

Is democracy for life or for taking lives?

+100%-

আগুনে পোড়া রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার
পর শুধু
পানি দিয়ে ঘসে ঘসে পোড়া চামড়া ওঠানো হয়।
পোড়া চামড়া টেনে ওঠানোর সময় ঐ
চিৎকার যে একবার শুনবে, সে জীবনেও
ভুলতে পারবে না….
এরপর ধুয়ে মুছে মলম লাগিয়ে গজ
ব্যান্ডেজ মুড়ে বেডে এনে রাখা হয়।
একদিন পর ড্রেসিং করা হয়।
ড্রেসিংয়ের সময় পুরনো গজ-
ব্যান্ডেজ খুলতে হয়। প্যাঁচ
খুলতে খুলতে যখন মাংসের
কাছাকাছি চলে আসে, তখন গজ আর
খোলে না। কারন, গজ তখন
পোড়া মাংসসহ চামড়ার
সাথে আটকে থাকে। এই গজ খোলার
জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়।
পানিতে ভিজিয়ে রেখেও লাভ হয় না।
তখন মাংসসহ টেনে টেনেই গজ
ব্যান্ডেজ খোলা হয়। ব্যান্ডেজের
কাপড়ের
সাথে ছিঁড়ে ছিঁড়ে আসে পোড়া চামড়া,
দগদগে মাংস।
এরপর শুরু হয় ওয়াশ করা। ওয়াশ
করার সময় আপনি বার্ণ ইউনিটের
গ্রাউন্ডফ্লোর থেকেই শুনতে পারবেন
চারতলা থেকে ভেসে আসা আগুনে পোড়া রোগীর
চিৎকার। এই চিৎকারের শব্দ আপনার
কানে না পৌঁছালে আপনি কোনদিন
বুঝবেন না, কষ্ট কি জিনিস!
ওয়াশ করার পর যখন একজন মানুষ
তাকিয়ে দেখে তার নিজের
শরীরে চামড়া নেই। তখনকার কষ্ট
আসলে লিখে প্রকাশ করা যায় না। শুধু
জানি এই মানুষটি গতকালও সুস্থ্য
দেহের একজন মানুষ ছিল। অথচ আজ
শুধু তার দেহে দগদগে মাংস…
এরপর আসে মলমের ড্রাম। মলম
লাগিয়ে গজ-ব্যান্ডেজ মুড়ে আবার
বেডে এনে রাখা হয়। পরেরদিন আবার
একই প্রক্রিয়া… একই কষ্টের
পুনরাবৃত্তি। এভাবেই
চলতে থাকে দিনের পর দিন।
কিছুদিন পর হয় অপারেশন। দুই পায়ের
উরু
থেকে ভালো চামড়া ছিলে পোড়া মাংসের
উপর বসিয়ে স্টেপল
দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর
মাংসের সাথে চামড়া লেগে গেলে স্টেপল
রিমুভার দিয়ে টেনে টেনে সেই
স্টেপলগুলো খোলা হয়।
একজন আগুনে পোড়া রোগীর কষ্টের
চিৎকারগুলো বার্ণ ইউনিটের
দেয়ালে দেয়ালে বাড়ি খায়… তারপর
বাতাসের সাথে মিলিয়ে যায়। এই
চিৎকারগুলো সেইসব অমানুষগুলোর
কানে পৌঁছায় না, যারা আগুনের
মাঝে গণতন্ত্র খোঁজে, লাশের
গন্ধে ক্ষমতার স্বাদ পায়।
পোড়া চামড়ার ঘাঁ শুকিয়ে গেল… কষ্ট
শেষ?
যে মানুষটি প্রতিদিন ক্লিন শেভড
হয়ে,
শরীরে বডি স্প্রে মেখে অফিসে যাওয়ার
জন্য বাসে উঠতো, আজ কি সেই
বডি স্প্রে দিয়ে শরীরের পোড়া গন্ধ
দুর হবে?
…অথবা যে মানুষটি তাকে দেখার জন্য
পার্কের বেঞ্চে একা একা চুপচাপ
বসে থাকতো, এই
ঝলসানো চেহারা নিয়ে কি সেই মানুষটির
কাছে ফিরে যেতে পারবে??
…বন্ধুদের আড্ডায়
যে মানুষটি হাসাতে হাসাতে সবার পেট
ব্যাথা করে ফেলতো, পোড়া দাগের
অভিশাপ নিয়ে সে কি আবার
ঐভাবে প্রাণখুলে হাসতে পারবে???
যার একবার চামড়া পুড়ে যায়, তার
পুরো জগতটাই মরে যায়। তারও
দুইটা ঠোঁট থাকে, কিন্তু সেই ঠোঁট
দিয়ে হাসতে পারে না। তারও দুইটা চোখ
থাকে, কিন্তু সেই চোখ দিয়ে বাইরের
পৃথিবীটা দেখতে ইচ্ছে করে না। শুধু
গলার ভেতর
আটকে থাকে একটা বুকফাটা চিৎকার।
সেই চিৎকারের শব্দ কোন অমানুষও
শোনে না… কোন মানুষও শোনে না…






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares