Main Menu

‍‍‌”গ্রেফতারের ভয় পাই না নিজে পালানোর পথ খোঁজেন”

+100%-


গ্রেফতারের ভয় পাই না নিজে পালানোর পথ খোজেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ২০ দলীয় জোট নেত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আরো বলেছেন, এ সরকার খুনী সরকার, অবৈধ সরকার। তাই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন নৈতিক অধিকার নেই। মঙ্গলবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, একদিনের হরতাল নয়। হরতাল আরো বাড়বে। ঈদের পরে আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে। আমি থাকি বা নাই থাকি আপনারা ঐক্যবদ্ধ ভাবে সে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বেগম জিয়া গ্রেফতারে ভয় পান না বলে উল্লেখ করে বলেন, দেশের মাটি ও মানুষ ছেড়ে কোথাও যাব না। ওয়ান ইলেভেনের সময় হাসিনার নামে কত মামলা হয়েছিলো। আমাদের নামেও হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর নিজের ও দলের নেতাদের মামলা তুলে নিয়েছে। আমাদের মামলা তোলেনি। এখন ভয় দেখায় গ্রেফতারের। কিন্তু আমি গ্রেফতারের ভয় পাই না। ওয়ান ইলেভেনের সময় তারা আমাকে দেশের বাইরে পাঠাতে চেয়েছিলো। কিন্তু আমি যাইনি। দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না। টিভিতে আমাদের কথা প্রচার পায় না। বিটিভি আওয়ামী লীগের টিভি। এখন বেসরকারি টিভিগুলোকেও আয়ত্বে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিচার বিভাগ স্বাধীন করার কথা বললেও স্বাধীন করা হয়নি। আজকে দেশে এক দলীয় শাসন কায়েম করেছে তারা। বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্তু জনগণ তা মানবে না। এ সরকার অনির্বাচিত সরকার, অবৈধ সরকার। সরকার নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করে চলেছে। এ কারনে দেশের আজ দুরাবস্থা। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি। প্রতিদিন খুন গুম রাহাজানি হচ্ছে। র‌্যাব গঠন করেছিলাম সন্ত্রাস দমনের জন্য। কিন্তু এখন তাদের দিয়ে এ সরকার মানুষ ধরে নিয়ে হত্যা করে। এখনও পর্যন্ত আমাদের দলের ৩১০ জনকে হত্যা করেছে। ৩৬ জনকে গুম করেছে। তিনি জনসভায় উপস্থিত জনতাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনারা ভোট দিয়েছিলেন কিনা। উপস্থিত জনতা ‘না’, ‘না’ বলে জবাব দেয়। খালেদা জিয়া এ সময় বলেন, ‘তাহলে কি করে এই অনির্বাচিত সরকার সংসদে বসে থাকে। তারা  কিভাবে বড় বড় কথা বলে আর আইন পাস করে।

জনসভায় জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক ও পৌর বিএনপি’র সভাপতি এডঃ শফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন  বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আব্দুল্লাহ আল নোমান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াত ইসলাম বাংলাদেশ’র নায়েবে আমীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মোঃ ইব্রাহিম, এলডিপি’র মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেস্টা শওকত মাহমুদ ও ডাঃ এমএ জাহিদ, এনডিপি’র চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মুর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর ইরান, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান মিয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারন সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ, জাতীয়পার্টি (জাফর) সেলিম মাষ্টার, গোলাম আকবর খন্দকার, অধ্যক্ষ আব্দুর রব, এডঃ আজহারুল ইসলাম, এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, সাইদ আহমেদ খান প্রমুখ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহিরুল হক খোকন, যুগ্ম-আহ্বায়ক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জিল্লুর রহমান, শফিকুল ইসলাম, রফিকুল হক, গোলাম সারোয়ার খোকন, সিরাজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের জেলা নেতা হাফেজ মাওলানা এমদাদুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও ইসলামী ঐক্যজোটের জেলা সেক্রেটারি হাফেজ ইদ্রিস প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন- বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, অর্থনীতি-বিষয়ক উপদেষ্টা আবদুস সালাম, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে ইলাহি আকবর, সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু, সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান রতন, চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান প্রমুখ।


এর আগে বিকাল পৌনে ৫টায় খালেদা জিয়া মঞ্চে আসেন। বিকেল ৫ টা ১৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি দীর্ঘ প্রায় পৌনে এক ঘন্টা বক্তব্য রাখেন। 






Shares