Main Menu

আচরণবিধি ভঙ্গের শোকজের জবাব দিয়ে ফের প্রচারণায় সাজু

+100%-

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার–২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য শাহজাহান আলম আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় অনুসন্ধান কমিটির করা কারণ দর্শানো নোটিশের (শোকজ) জবাব দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের জন্য গঠিত নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ (আখাউড়া) আবুল হাসানাতের কার্যালয়ে তাঁর আইনজীবী ও সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেনের মাধ্যমে নোটিশের লিখিত জবাব দেন। আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে গত শনিবার তাঁকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর থেকে নৌকার প্রার্থী শাহজাহান আলম তাঁর নির্বাচনী এলাকার গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভোট চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভোট চাওয়ার স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ তাঁর নিজের এবং অনুসারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছিল। এরপর শনিবার শাহজাহান আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আবুল হাসানাত।

শাহজাহানের পক্ষে শোকজের জবাব দেওয়া সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমি তাঁর আইনজীবী হিসেবে অনুসন্ধান কমিটির প্রধানের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। ভেতরে কী লিখা আছে, আমি জানি না।’

সংসদ সদস্যের পক্ষে একজন আইনজীবী শোকজের লিখিত জবাব দিয়ে গেছেন বলে জানান নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালতের পেশকার কামরুল হাসান। আদালত সূত্রে জানা গেছে, লিখিত বক্তব্যে শাহজাহান আলম দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি আবার আচরণবিধি ভঙ্গ না করার অঙ্গীকার করেছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, থেমে নেই শাহজাহান আলমের প্রচারণা।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে শাহজাহান আলম ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। তিনি এলাকায় এলাকায় গণসংযোগ ও সমাবেশ করে বেড়াচ্ছেন। গণসংযোগ ও সমাবেশে গত ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তাঁকে বিজয়ী করার জন্য এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এবং আগামী ৭ জনুয়ারির নির্বাচনের জন্য ভোট চাইছেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। এসব কর্মসূচির স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ তাঁর নিজস্ব এবং অনুসারীদের ফেসবুক আইডিতে প্রচার করছেন।

৫ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে শাহজাহান আলম নৌকার প্রার্থী হয়ে ৬১ হাজার ৮২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির টানা দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৩৬১ ভোট। উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির দুর্গে বিএনপিবিহীন ভোটে ৫০ বছর পর ওই আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ।

এবার এ আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শাহজাহান আলম ছাড়া অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধা (স্বতন্ত্র), জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মঈন উদ্দিন (স্বতন্ত্র), ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, বিএনপির দলছুট সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার ছেলে তৃণমূল বিএনপির মাইনুল হাসান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, একই দলের যুগ্ম মহাসচিব আবদুল হামিদ, জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কর্স পার্টির কাজী মাসুদ আহমেদ, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কুদ্দুছ ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির রাজ্জাক হোসেন।

আচরণবিধি ভঙ্গের কারণ দর্শানো নোটিশের পরও আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহজাহান আলম থামছেন না বলে অভিযোগ তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী মাইনুল হাসানের। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাঁকে (শাহজাহান আলম) শোকজ করার পরও আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, সরাসরি ভোট চাইছেন। এসব প্রচারণার ছবি ও ফুটেজ তিনি নিজে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার করছেন। এটি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এখনই যদি এ রকম হয় পরে আরও বেশি হবে। এখন আমাদের বেলায় একরকম আর তাঁর বেলায় অন্য রকম। যতি এভাবে চলতে থাকে তবে আমরা বিকল্প চিন্তা করব।’

একই অভিযোগ জিয়াউল হক মৃধার। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে তিনি (শাহজাহান) প্রতিদিন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন। এসব হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আমি এসবের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’