Main Menu

‘ক্ষমতাসীন দলগুলোর রুটি-রুজির প্রধান জায়গা এলজিইডি’

+100%-

ডেস্ক ২৪:ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেসব এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সেসব এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ বণ্টন করা হয়। এতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থ রাজনৈতিক সমঝোতাকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

রোববার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে টিআইবি’র পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুর্নীতির ওপর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রস্তুতকৃত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গোলটেবিল আলোচনায় ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশের সকলস্তরে দূর্নীতি বন্ধ হলে দেশ থেকে ৭০ ভাগ দুর্র্নীতি কমে যাবে। তিনি আরো বলেন, এলজিইডি ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হলে এলজিইডি দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেশের সকল গবেষণা সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সমাজের সকলস্তরে জবাবদিহিতা সৃষ্টি করতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক সালাহউদ্দিন সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ ধারার আলোকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর’র এই নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাবও করেন। বৈঠকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে টিআইবি’র গবেষকরা তিন পর্যায়ে সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছেন। এরমধ্যে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্তা বন্ধ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন, এলজিইডি’র জন্য মানবসম্পদ ইউনিট গঠন করা, এলজিইডি’র উন্নয়ন বাজেটের অধীনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন, তথ্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত, এলজিইডি’র নাগরিক সনদ হালনাগাদ করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ এলজিইডি’র স্থানীয় পর্যায়ের সবগুলো কার্যালয়ে জনসমক্ষে প্রকাশ, সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ উল্লেখযোগ্য।

টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারপারসন এম. হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, টিআইবি’র গবেষক নাহিদ শারমীন, শাহজাদা এম. আকরাম প্রমুখ।

টিআইবির প্রেস রিলিজ

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হ্রাসের উপর গুরুত্বারোপ
ঢাকা, ২১ জুলাই ২০১৩: আজ এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালনের স্বার্থে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রভাব হ্রাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সিরডাপ মিলনায়তনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর:সুশাসনের সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে জানানো হয় যে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিয়ামকের প্রভাবের কারণে এলজিইডি প্রত্যাশিত লক্ষঞ্জর্জনে সক্ষম হচ্ছে না এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্থাটিতে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে।
টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জনাব এম. হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় মুখ্য আলোচক ছিলেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন এম. আমিনুজ্জামান। অন্যানেশু মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীজনাব আবুল কালাম আজাদ, টিআইবি‘র উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, এলজিইডি’র কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে এলজিইডি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সারাংশ তুলে ধরেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাহিদ শারমিন এবং সঞ্চালক
ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, “এলজিইডিকে অবশ্যই তার কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।” তিনি এলজিইডিকে আরো গতিশীল করার স্বার্থে আমলাতান্ত্রিক দৌরাত্ব্য প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক সালাহউদ্দিন এম. আমিনুজ্জামান বলেন, “সুনির্দিষ্ট আইন ও মিশন ব্যতিরেকেই এলজিইডি কাজ করায় প্রতিষ্ঠানটি বহুবিদ কাজে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে।” তিনি সংবিধানের আলোকে সংস্থাটির জন্য কার্যকর আইন প্রণয়নের ওপর জোর দেন।
দীর্ঘ তিন বছর অনুসন্ধানমূলক গবেষণার মাধ্যমে প্রণীত এই প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো বাস্তবায়নকারী দেশের সর্ববৃহৎ সংস্থা এলজিইডি সূচনা লগ্ন থেকে উল্লেখযোগ্য নানা ইতিবাচক অর্জন করলেও দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব, মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ, প্রকল্পের নিরীক্ষা ও মূল্যায়নে সিজিএ, সিএজি এবং আইএমইডি’র সীমাবদ্ধতা, অস্থিতিশীল বাজার ও প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা প্রভৃতি কারণে প্রত্যাশিত সাফলঞ্জর্জন করতে পারছে না। অন্যদিকে জনবল বল্টস্থাপনার দুর্বলতা, তদারকির অভাব, নীতিমালা বাস্তবায়নের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ঘটেছে। বিশেষত: এলজিইডি’র
প্রধান প্রকৌশলীর একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের ফলে পদায়ন, বদলী, পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বেচ্ছাধীনভাবে গাড়ীসহ অফিসের লজিস্টিকের বল্টহার বিশেষতঃ বেআইনীভাবে
ব্যক্তিগতকাজে গাড়ী বল্টহার এবং বল্টহার সংশ্লিষ্ঠ সকল খরচ যেমন- তেল, ড্রাইভারের ওভারটাইম এলজিইডি থেকে পরিশোধ, সম্ভাব্যতা যাচাই ব্যতিরেকে প্রকল্প প্রণয়ন, ব্যয় প্রস্তাবনা প্রাক্কলনে অনিয়ম, কার্যাদেশ প্রদানে রাজনৈতিক প্রভাব,ল্ডপত্র নিয়ন্ত্রণ,ল্ডপত্র পেশের পর শিডিউল পরিবর্তনসহ প্রকৌশলী ও ঠিকাদারল্ডে সমঝোতার মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্নীতি, বিল উত্তোলনে দুর্নীতিসহ এলজিইডিতে নানা ধরণের দুর্নীতি ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয় প্রত্যেক ঠিকাদারকে এলজিইডি’র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাল্ডে প্রতিটি বিল থেকে ৮.৫% থেকে ১০.৫% কমিশন দিতে বাধ্য করা হয়। ঠিকাদারল্ডে প্রদত্ত তথঞ্জনুযায়ী এভাবে কমিশন বাবদ কোটি কোটি টাকা ঠিকাদারল্ডে কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়। অন্যদিকে ঠিকাদাররা নিম্নমানের উপকরণ বল্টহার করার ফলে অনেক প্রকল্পই যথাযথভাবে টেকসই হতে পারে না। স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং তাল্ডে ঘনিষ্ঠজনেরা ল্ডপত্র ও কার্যাদেশ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং রাজনীতিবিদল্ডে ইচ্ছা অনুযায়ী প্রকৌশলীল্ডে কাজ করতে হয়। এর অন্যথা হলে শারীরিক লাঞ্ছনারও সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া একটি স্কিম যেভাবে পরিকল্পনা করা হয় বাস্তবায়নের সময় সেই পরিকল্পনা অনুসৃত হয় না।
উদাহরণ হিসেবে গবেষণার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী একটি প্রকল্প এলাকায় ৮টি ইউপি কমপ্লেক্সের বিপরীতে দুইটি এবং ৪৫টি গ্রোথ সেন্টারের বিপরীতে ৮টি নির্মিত না হওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয় কয়েক কোটি টাকার। আবার দু’টি উপজেলায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নির্মাণ করা হয় কয়েক’শ ছোট বড় ব্রিজ। সার্বিকভাবে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী, রাজনীতিক ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার অনাকাঙ্খিত প্রভাবের কারণে সাধারণ গ্রামীণ জনগণ চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রতিবেদনে নীতি নির্ধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, তথ্য প্রকাশ ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে ১৫টি সুপারিশ উপস্থাপন করে বলা হয় সংশ্লিষ্ঠ আইন সংশোধন করে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকা-ের বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যল্ডে সম্পৃক্ততা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রণোদনা যেমন- এলজিইডি কর্মকর্তাল্ডে ক্যাডার সার্ভিসে অন্তর্ভুক্তকরণ, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম দূরীকরণ, দুর্নীতির সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারিল্ডে বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক বল্টস্থা গ্রহণ, অভ্যন্তরীণ এবং আইএমইডি কর্তৃক পর্যাপ্ত ও কার্যকর তদারকি বল্টস্থা নিশ্চিতকরণ, সর্বোপরি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এলজিইডিকে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares