Main Menu

সরাইল :: স্কুল ছাত্র অপহ্রত – ২২ ঘন্টা পর পালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে

+100%-

সরাইল  প্রতিনিধিঃসরাইল থেকে অপহরনের ২২ ঘন্টা পর পালিয়ে নিজের জীবন বাঁচিয়েছে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সৈয়দ মাহবুবুর রহমান রনি (১৩) সে সরাইল আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রনি। উপজেলার আইরল গ্রামের ব্যবসায়ি সৈয়দ হাবিবুর রহমানের তিন মেয়ে এক ছেলে রনি সবার বড়। গত রোববার সকালে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে রনিকে অপহরন করে নিয়ে যায় । তাদের কবল থেকে পালিয়ে গতকাল ভোর পাঁচটায় রনি আশ্রয় নেয় ঢাকায় তার চাচার বাসায়। পরিবার ও অপহৃত রনি জানায়, তারা সরাইল সদরের প্রাত:বাজার এলাকায় নিজেদের বাড়িতে থাকে। গত ৫-৬ দিন ধরে আইরল গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছেন। গত রোববার সকাল সাড়ে ৬টায় স্কুলে যাওয়ার জন্য ড্রেস পড়ে বই খাতা নিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে বাই সাইকেলে রওয়ানা দেয় রনি। বড্ডাপাড়া রাহমাতুল্লিল আল- আমীন আলীয়া মাদ্রাসার কাছে আসার পর একটি মাইক্রো থেকে নেমে তিন যুবক রনির গতিরোধ করে। তারা রনিকে বিশ্রাম নিতে বলে। কিচ’ক্ষণ পর একটি সিএনজি অটোরিক্সা আসে। তিন যুবক জোর করে রনিকে ওই সিএনজিতে উঠায়। আর তার সাইকেলটি সড়কের পাশের একটি গাছে ঠেস দিয়ে রাখে। মুখের ঘাম মুছার কথা বলে রনিকে একটি রোমাল দেয়। রনি ওই রোমাল দিয়ে ঘাম মুছতে চায়নি। তারা রনির মুখে রোমালটি দিয়ে শাশ্বরোধ করে । এরপর আর কিছু বলতে পারেনি রনি। সামান্য জ্ঞান আসার পর রনি বুঝতে পারে সে ট্রেনে।  তাকে ধরে বসে আছে এক যুবক। ভোর চারটায় গিয়ে নামে ঢাকার কমলাপুরে। রনিকে নিয়ে ওই যুবক এদিক সেদিক ঘুরছে। রনিও আস্তে আস্তে নিশ্চিত হয়েছে যে সে তখন ঢাকায় আর এখন তারা তিন জন নয়, মাত্র একজন। তার মনে সাহস সঞ্চার হয়। তখন সে পালানোর চেষ্টা খুজে হঠাৎ যুবকটির অন্য মনস্কের সুযোগে দ্রুত দৌঁড়ে সটকে পড়ে রনি। আগে কয়েকবার যাওয়ার সুবাদে জায়গাটি ছিল রনির পরিচিত। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে রনি তার ছোট চাচা মোতাহার হোসেনের শান্তি নগরের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। অসময়ে রনির আগমনে বাসার সকলেই আশ্চর্য ও হতবাক হয়ে যান। পরে পুরো ঘটনার বর্ণনা করে রনি।
ওদিকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় ভেঙ্গে পড়েন রনির বাবা মা। অবশেষে রাত ১০টায় সরাইল থানায় একটি জিডি করেন রনির বাবা দুলাল মিয়া। গত সোমবার সকালে ঢাকা থেকে রনিকে পাওয়ার ফোন আসলে রনির পরিবারে স্বস্থ্যি ফিরে আসে। হাঁসি ফিরে আসে শোকে কাতর মা বাবা দাদা দাদু সহ পরিবারের সবার মুখে। রনি শিখিয়েছে অপহরনের পর বাঁচতে সাহসের প্রয়োজন।






Shares