
উল্লেখ্য, গত ৫ বছর আগে ধাউরিয়া গ্রামের সতীথ সরকারের মেয়ে শিউলী রানী সরকার তার স্বামী ও তিন সন্তানকে রেখে বাড়ি থেকে সে হারিয়ে যায়। বাড়ির লোকজন ও আত্মীয় স্বজন অনেক খোঁজাখুজি করেও শিউলীর সন্ধান পায়নি। গত বছর ঢাকা থেকে এক দল ব্যাংকার বন্ধুরা মিলে বান্দরবান জেলার থানচিতে ঘুরতে গিয়ে শামীম আহমেদ রাস্তার পাশে অসহায় বেশে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় মেয়েটিকে আবিষ্কার করেন। দীর্ঘদিন ধরে অনাহার, অর্ধাহার ও নিদারুন বঞ্চনার করুন স্বাক্ষী ওই মেয়েটিকে ঢাকায় এনে শেরেবাংলা নগর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনষ্টিটিউটে “অন্তর” নাম রেখে ভর্তি করান তিনি। উন্নত চিকিৎসা ও সেবাযতœ পেয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠে মেয়েটি। পরে জানা গেল, মেয়েটির প্রকৃত নাম শিউলী রানী সরকার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর গ্রামে তার স্বামী ফালান সরকার এবং সাগর, হৃদয়, লিপি নামের তিন সন্তান রয়েছে। মানসিক ভারসাম্যহীন শিউলী রানী সরকারকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিয়ে চিকিৎসার মাধ্যমে ভাল করে ব্যাংকের বন্ধুরা গত ১৩ জুন ২০১৫ সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের সেই অন্তরকে স্বামী- সন্তান ও পরিজনের কাছে হস্তান্তর করেন। হস্তান্তরকালে অন্তরকে একটি সেলাই মেশিন, স্বর্ণের নাকফুল, নগদ টাকা, জামা কাপড় সহ আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্রও তুলে দেন বিরল ভালবাসার স্বাক্ষী পিতৃতুল্য শামীম আহমেদ ও তার বন্ধুরা। তাদের অন্তর কেমন আছে- তার খোঁজ নিতে আবারো সেই বন্ধুরা ঢাকা থেকে অন্তরের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পর গ্রামবাসী ভেঙ্গে পড়েন তাদের দেখতে। গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মোঃ হেলাল মিয়া অবাক বিষ্ময়ে অন্তরের আবিষ্কারক পিতা শামীম আহমেদ কে সেদিন বুকে জড়িয়ে বললেন “বাবা তুমি মানুষ নও, ফেরেশতা”। মানুষের বিপুল ভালবাসায় সিক্ত ঢাকাস্থ যমুনা ব্যাংক এর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার শামীম আহমেদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমার মানবিক বিবেক বোধ থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন এই মেয়েটিকে জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে আমার বন্ধুদের নিয়ে কিঞ্চিত চেষ্টা করেছি এ কারণে যে, আমাদের কাজটি দেখে মানুষেরা যেন উদ্ধুদ্ধ ও অনুপ্রানিত হয়ে রাস্তাঘাটে কোন পাগল বা মানসিক ভারসাম্যহীন লোককে অনাদর-অবহেলা না করে তাদের প্রতি মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেন”।