
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কোন অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারনে গত ২৬ জুলাই সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা: হাসিনা আখতার বেগম স্বাক্ষরিত এক পত্রে ৭ জন চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে। শোকজকৃত চিকিৎসকরা হলেন- ডেন্টাল সার্জন ডা: নাজিফা আলম, মেডিকেল অফিসার ডা: মোবাশ্বের সামিয়া হক, ডা: রেজাউল করিম মজুমদার, ডা: সৈয়দ তাছরিন আহমেদ, ডা: সৈয়দা আমেনা খায়ের লোপা, ডা: এইচ এম মশিউর রহমান ও ডা: মহিউদ্দিন হাসান। তাদেরকে আগামী পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে ওইদিন অনুপস্থিত ছিলেন আবাসিক চিকিৎসক ডা: নোমান মিয়া, ডা: রফিক আহমেদ (অর্থো:) ও মেডিকেল অফিসার ডা: নাছির উদ্দিন। অজানা কারনে তাদেরকে শোকজ না করায় নানা আলোচনা সমালোচনা চাউর রয়েছে হাসপাতালে।
প্রসঙ্গত: গত শনিবারে সরজমিনে সরাইল হাসপাতালে গিয়ে ৩৪ জন চিকিৎকের মধ্যে মাত্র ৫ জনকে উপস্থিত পাওয়া যায়। তাও তারা প্রত্যেকে এসেছেন সোয়া নয়টার পর। আর খোদ ইউএইচও নিজেই এসেছেন ১০টা ৫৫ মিনিটে। সাড়ে এগারটার পর আসেন আরো তিন জন চিকৎসক। অন্যরা কোথায়? এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) বলেন, ১০ জন প্রশিক্ষণে, ৩ জন কনসালটেন্ট ডেপুটেশনে জেলা সদরে আর ৬ জন উপজেলার বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকার কথা। আর আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো: নোমান মিয়া সহ বাকিরা মৌখিক ছুটিতে রয়েছেন। মূলত: উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কেউই ছিলেন না।
অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মো: মিজানুর রহমান বলেন, এখানকার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে বৃষ্টির পানি। তাই এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসক আসেন না। শাহজাদাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, এখানকার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঈদ-উল-ফিতরের পর থেকে আজ পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা মিলেনি। ইউএইচও ডা: হাসিনা আখতার বেগম বলেন, অনুপস্থিতির কারনে ৭ জনকে শোকজ করেছি। পাঁচ দিনের মধ্যে তাদেরকে লিখিত জবাব দিতে হবে। আরএমও সহ তিনজন চিকিৎসক আমাকে বলে গিয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন (সিএস) ডা: হাসিনা আক্তার সরাইলের ৭ চিকিৎসককে শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাদের লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।