
নাগরিক সচেতনাতাই পৌরসভার উন্নয়নের প্রধানতম শর্ত- র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা অচিরেই দেশের অধুনিক পৌরসভার হিসেবে পরিনত হবে-মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত উন্নয়ন বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি ৯৭ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা এবং সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৯৮ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা। এ বাজেটে সমাপনী স্থিতি ১কোটি ৯৮ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা। ২০১৪-১৫ সালে সংশোধিত বাজেটে আয় ছিল ৩৫ কোটি ৭৮ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা ও ব্যয় ছিল হয়েছে ৩৩ কোটি ৮ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ছিল ২ কোটি ৫০ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা গতকাল বনার্ঢ্য আয়োজনে উক্ত বাজেটের আনুষ্ঠানিক ঘোষনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র, মিউনিসিপ্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন। এটি বর্তমান পৌর পরিষদের পঞ্চম ও মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিনের উপস্থাপিত দশম বাজেট। এ উপলক্ষে গতকাল ২২ জুন, সোমবার বিকেল ৪টায় লোকনাথ দিঘির পাড়স্থ (টেংকের পাড়স্থ) সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম পৌরকমিউনিটি সেন্টারে বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পৌর মেয়রের সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক এডঃ সৈয়দ একেএম এমদাদুল বারী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এ মাসুদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, প্রেস ক্লাব সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রেজা, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ডা. মোঃ বজলুর রহমান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার বর্তমান পৌর পরিষদের পঞ্চম এবং নিজের দশম বাজেট পেশ করার পূর্বে মেয়র মহান আল¬াহ রাব্বুল আলামিনের কাছে কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া জানান এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও তার পরিবারে শহীদ সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও ব্রাহ্মবাড়িয়ার প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বাজেট বক্তব্যে মেয়র তাঁর গত চার বছরে বর্তমান পৌর পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্নানা দিয়ে বলেন দ্বিতীয়বার আপনারা আমাকে মেয়র নির্বাচিত করায় পৌরবাসীর প্রতি আমার দায়িত্ব কর্তব্য বহুগুনে বেড়ে যায়। আপনার জানেন বিপুল অংকের ঋনের বোজা মাথায় নিয়ে আমি এই পৌরসভার দায়িত্ব নিয়েছি। নানান প্রতিকুলতা সত্বেও রিএসেসমেন্ট সম্পন্ন করে সকল ঋণ পরিশোধ করেছি। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন রাস্তা ড্রেন নির্মান করেছি। পুরাতন রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার করেছি। এছারাও বিশুদ্ধ পানি সরবারাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ষ্ট্রিস্ট লাইট স্থাপন, শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, দরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবন মান উন্নয়ন, নারীদের অধিকার সচেতন ও তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করে সাবলম্বী করে তোলাসহ পৌরসভার দাপ্তরিক সমস্ত কাজে দায়িত্বশীলতা, গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চত করেছি। দাপ্তরিক কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজ করেছি। তিনি বলেন উন্নয়নের এই অগ্রযাত্র চলমান থাকবে।পৌরবাসী সকলের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা অচিরেই দেশের অধুনিক পৌরসভার হিসেবে পরিনত হবে। আমাদের বর্তমান বাজেট সে লক্ষেই প্রনয়ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মাল্টি মিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পৌরসভার উনয়ন কর্মকান্ডের স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রর্দশন করা হয়।
এর আগে বাজেট ঘোষণা পূর্বে সকালে পৌরসভা মাহবুবুল হুদা সভা কক্ষে প্রস্তবিত বাজেটের উপর সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ, জেলার সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া,স্থানীয় পত্রিকা অনলাইন পত্রিকার সকল সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পৌর মেয়র সাংবাদিকবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
বাজেট অধিবেশনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা শহরের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বৃন্দ, পৌরসভার কাউন্সিলর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং পৌর নাগরিকবৃন্দসহ প্রায় তিন হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বাজেট অধিবেশনের পর দোয়া ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার পূর্ব দোয়া মাহফিলে দেশ ও জাতির এবং পৌরবাসীর মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়।