The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

নীতিমালা অমান্য করে সরাইলে লীজ নিয়ে দোকান ১২ লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি স্থায়ী ইমারত নির্মান

মোহাম্মদ মাসুদ, সরাইল প্রতিনিধি :: সরাইলে সরকারি নীতিমালা মানছে না এক শ্রেণীর ভূমি দস্যুরা। ভূমির শ্রেণী পরিবর্তনে কৌশলে প্রতারনা করেছেন তৎকালীন কর্মকর্তারা। পেরিফেরির দোকান নিশ্চিন্তে বিক্রয় করে কামাই করছেন মোটা অংকের টাকা। এক বছরের জন্য নাম মাত্র মূল্যে লীজ নিয়ে নির্মান করে চলেছেন স্থায়ী ইমারত। মাসোয়ারা দিয়ে মুখ বন্ধ করছেন স্থানীয় মাতাব্বরদের। উপজেলার চুন্টা বাজারে স্থানীয় ভূমি অফিসের সামনেই চলছে এ অনিয়ম। কেউ বাঁধা দিলে বিব্রতবোধ করেন স্থানীয় উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা। গত শনিবার (১৪ মার্চ) সরজমিনে গিয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে স্থায়ী ইমারত ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও। টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করার কথা জানিয়েছেন দোকানের লীজ গ্রহীতারা। সরজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চুন্টা বাজার ও সেন বাড়ি সংলগ্ন খাস পুকুরে পেরিফেরির মাধ্যমে কিছু দোকান বরাদ্ধের আবেদন করেন স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট। তারা দোকান দেয়ার কথা বলে অনেক নিরীহ লোকের কাছ থেকে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীরা দোকান ভাগে পেলেও অসহায় দূর্বল লোকজন বাড়ি ফিরেন খালি হাতে। উপজেলার তৎকালীন কর্মকর্তারা মাসোয়ারা পেয়ে ভুলে যান নিয়ম নীতি। তারা কৌশলে প্রতারনার মাধ্যমে পুকুরকে ভিটি ভূমি লিখে অনুমোদন করে দেন পেরিফেরি (মামলা নং-৪৭/২০১১-২০১২)। এ ছাড়াও সেখানে রয়েছে অর্পিত সম্পত্তি (দাগ নং- ৫১৫৩, ৫১৩৬, ৫১৪৫ ও ৫১৪৩)। সরকারি কোষাগারে নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে তারা বুঝে নেন জায়গা। অনেকে কৌশলে একাধিক দোকানের দখল নিয়েছেন। রাতারাতি পুকুরে গড়ে উঠে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শুধু জসিম উদ্দিনই নামে বেনামে নিয়েছেন সাতটি দোকান। সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তির কোন শর্তই এখন মানছে না ভূমি দস্যুরা। মনগড়া মত তারা ওই দোকান গুলো ভাড়া দিচ্ছে ও বিক্রয় করছে। সম্প্রতি বাজারের প্রবেশ পথের পাশের চার নাম্বার দোকানটি ১২ লক্ষাধিক টাকায় বিক্রয় করে দিয়েছেন বড়বুল্লা গ্রামের ছবদর আলী ও তার ছেলে ইছা মিয়া। ক্রয় করেছেন করাতকান্দি গ্রামের জবান আলীর ছেলে হাফেজ জাকারিয়া। দোকান বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছবদর আলীর ছেলে আল-ইসলাম। ইছা মিয়া নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে এসে বলেন, অনেকেই তো সেখানে দোকান বিক্রি করছে। আমার এক স্বজনকে দোকানটি চালানোর জন্য দিয়েছি। এ অবৈধ কাজটিকে ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মাতাব্বর ও কর্মকর্তাদের মাঝে টাকা বিতরনের বিষয়টি চাউর রয়েছে গোটা চুন্টায়। এ বিষয়ে প্রশাসন প্রথম দিকে একটু নড়াচড়া করলেও পরে চুপসে যায়। আল- ইসলাম বলেন, দোকানটি এক বছরের জন্য আমার পিতা লীজ নিয়েছিলেন। বড় ভাই ইছা মিয়া এতদিন চালিয়েছেন। এখন তারা বলছেন নয় লক্ষ টাকায় দোকানটি বিক্রি করে দিয়েছেন। ছেলে হিসেবে ওই টাকার ভাগ আমারও প্রাপ্য। টাকা চেয়েছিলাম। বাবা বলেছেন কাউকে টাকা না দিয়ে আপাতত নিজের হাতেই রাখবেন। ওদিকে পেরিফেরির চুক্তি ভঙ্গ করে পুকুরের উত্তর পাড়ে ভূমি অফিস থেকে মাত্র ৩০-৪০ গজ দূরে এখন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নির্মান করা হচ্ছে স্থায়ী ইমারত। স্থানীয় ভূমি অফিসের লোকজন অনেকটা না দেখার ভান করে চলেছেন। এ কাজটিকে বৈধতা দিতে সেখানে সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে আরেকটি সিন্ডিকেট। তারা প্রত্যেক লীজ গ্রহীতার কাছে এক লাখ টাকা দাবী করে চলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন একাধিক দোকান মালিক। স্থায়ী ইমারত নির্মানকারিরা হলেন, শহীদুল্লাহ, রাশেদুল ইসলাম, জুনায়েদ মিয়া, ফুল মিয়া, ছাদেক মিয়া, লায়েছ মিয়া, জিল্লুর রহমান, ফজলুল হক ও ইয়াছিন মিয়া প্রমূখ। এ বিষয়ে স্থানীয় উপ- সহকারি ভূমি কর্মকর্তা আবু বক্কর শিবলী বলেন, দোকান বিক্রয় কেন হস্তান্তর করারও কোন বিধান নেই। তারা দুই’শ টাকার ষ্ট্যাম্পে হস্তান্তরের কথা বলেছে। আমি এ বিষয়ে এসি ল্যান্ড বরাবরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। লীজের জায়গায় স্থায়ী ইমারত নির্মান সম্পূর্ণ অবৈধ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত এসি ল্যান্ড মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, পেরিফেরির দোকন কখনোও হস্তান্তর যোগ্য নয়। ইমারত ভাঙ্গার জন্য নোটিশ দিয়েছি।

Exit mobile version