The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হিলিপের আহরন্দ-ঘাটিয়ারা প্রকল্প, সুফল থেকে বঞ্চিত মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা : :ব্যাপক অনিয়ম, সেচ্ছাচারিতা আর অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে বন্ধ রয়েছে হাওর অঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্প ( হিলিপ ) এর আওতাধীন আহরন্দ থেকে ঘাটিয়ারা হেলিডে রাস্তার কাজ। ফলে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল আজিজসহ এ প্রকল্প স্থানীয়ভাবে তদারকির জন্য সংরক্ষিত মহিলা সদস্যসহ কয়েকজনের সমন্বয়ে একটি কমিটি থাকলেও অভিযোগ উঠেছে আব্দুল আজিজ একাই প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম আর সেচ্ছা চারিতায় এ প্রকল্পের কাজ করিয়েছেন। এ প্রকল্পের অর্থ স্থানীয় দারিদ্র, অসচ্ছল ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠিকে আর্থিকভাবে লাভবান করার কাজে ব্যাবহৃত হয়ে হাওড় অঞ্চলের  অবকাঠামোর উন্নয়ন করে উদ্বৃত লভ্যাংশের অর্থ শ্রমিকদের মাঝে সুসম বন্টন হওয়ার কথা থাকলেও এলাকায় আলোড়ন রয়েছে ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ কৌশলে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে অনৈতিকভাবে এর বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি সম্প্রতি এলাকায় জমি ক্ষরিদসহ বাড়ীঘরে ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন বলে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে। মধুপুর গ্রামের তিতাস নদীর পাড় থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের আহরন্দ জামে মসজিদ পর্যন্ত ১১’শ ২০ মিটার  ও ঘাটিযারা হেলিডে রোড থেকে আহরন্দের দিকে প্রায় সাড়ে ৬ শ’ মিটার রাস্তার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মাঝখানে বাকী রয়েছে আরো সাড়ে ৭ শতাধিক মিটার কাজ। এ কাজে ১৫ জন করে স্থানীয় অসচ্ছল প্রশিক্ষিত শ্রমিক দিয়ে লেবার কনস্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) কমিটি করে কাজ করানোর কথা থাকলেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়–য়াসহ বিভিন্ন ধরনের সচ্ছল ব্যাক্তি বর্গের নামও কমিটিতে রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। অথচ কাজ করানো হয়েছে ঠিকাদারদের আওতাধীন অন্য জেলার শ্রমিক দিয়ে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে পার্শ্ববর্তী উজানিসার গ্রামের অসচ্ছল বেশ কয়েকজন শ্রমিককে গত রমজান মাসে প্রশিক্ষন দেয়া হলেও তাদের কাজে রাখা হয়নি। ফলে তাঁরা এ আর্থিক সূবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যাক্তি আক্ষেপ করে এ অভিযোগ করেন। এ প্রকল্পে যথা ক্রমে ৯৮ লাখ ও ৭২ লাখ মোট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় এবং ১১টি ও ১৪টি মোট ২৫টি লোক দেখানো (এলসিএস) কমিটির মাধ্যমে দু’টি প্রকল্পেই নির্মিত ব্লক ও রাস্তায় নিম্নমানে ইট-বালু ব্যবহারের কারনে রাস্তার বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে ভেঙ্গে পরেছে। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ অভিযোগ হওয়ার কথা স্বিকার করে বলেন, দেশের উচ্চ পর্যায়ে দূনীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ লুট-পাট হচ্ছে এসব না দেখে, আমাদের এ ছোটখাট বিষয় নিয়ে মানুষ মাথা ঘামায়। এ ব্যাপারে হিলিপ প্রকল্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, এসব অভিযোগ লেখা-লেখির ফলে উপর মহলের নির্দেশেই কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে রাস্তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার হাজার হাজার মানুষ। এসকল অভিযোগ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট মহল কর্তৃক যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণপূর্বক এ প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে এলাকার মানুষকে এর সুফল ভোগে দ্রুত ব্যাস্থা নেয়া হবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Exit mobile version