The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সৌদিতে নিহত রফিকের বাড়িতে এখন কান্নার রোল

ডেস্ক ২৪::খুন হওয়ার কিছুক্ষণ আগেও স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল সৌদি আরব প্রবাসি বাংলাদেশি যুবক রফিকুল ইসলামের (৩০)। পরে গিয়েছিলেন মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করতে। নামাজও শুরু করেছিলেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি। সেজদারত অবস্থায়ই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়েছিল তাকে।

রফিকুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার খোলাপাড়া গ্রামের আবু তাহের মিয়ার ছেলে। তাকে গত ৭ ডিসেম্বর আসরের নামাজে সেজদারত অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর সংবাদে তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা রফিকুলের হত্যাকারীর বিচার দাবি করেছেন।

রফিকুল মহসিন নামের এক ব্যবসায়ীর দোকান কর্মচারী ছিলেন। ১৭ বছর ধরে তিনি সেখানে চাকরি করে আসছিলেন।

রফিকুলকে গুলি করার সময় তার পাশে নামাজে থাকা ভারতীয় অপর মুসল্লিও গুরুতর আহত হন। পুলিশ হত্যাকারীকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে রফিকুলের সহকর্মীরা।

আরব নিউজের সূত্রে মুয়াজ্জিনের গুলিতে নিহত হবার খবর প্রকাশ হলেও রফিকুলের স্থানীয় বন্ধু ও সহকর্মীদের বরাত দিয়ে তার পরিবার জানান,  রফিকুল সৌদি আরবের স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন নামের এক  ব্যবসায়ীর দোকান কর্মচারী ছিলেন। ১৭ বছর ধরে তিনি সেখানে চাকরি করে আসছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে রফিকুল কথা বলার পর গত ৭ ডিসেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অরতাভিয়া এলাকায় আসরের নামাজ পড়তে মসজিদে যান রফিকুল। এ সময় সৌদি ব্যবসায়ী মহসিনের ভাগিনা ব্যাবসা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে  রফিকুলকে মসজিদে ঢুকে নামাজে সেজদা দেয়া অবস্থায় তিন রাউন্ড গুলি করে হত্যা করে।

নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের চলছে আহাজারি। ছেলে হারানোর ব্যথায় মা জাহেরা খাতুনের চিৎকারে আকাশ বাতাশ যেন ভারি হয়ে আসছে। বাবা আবু তাহের মিয়া অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। কোনো কথা বলতে পারছেন না। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে অন্ধকার দেখছে হেলেনা বেগম। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও কথা হয়েছিল তার সঙ্গে।

নিহতের স্ত্রী হেলেনা বেগম বলেন, ‘আমাকে গত রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ফোন দিয়ে সে অনেক কথা বলেছে। তার দুই ছেলেকে যেনো ভাল একটি স্কুলে ভর্তি করাই সেজন্য আমাকে বার বার তাগিদ দিয়েছে। আমার সাথে কথা বলা শেষে সে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য যায়। এরপর আর আমার সাথে তার আর কথা হয়নি।

নিহতের বড় ভাই কামাল বলেন, ‘রফিক তার মালিকের খুব কাছের লোক হওয়ায় মালিকের ভাগিনার অবৈধ কাজে বাধা দিত সে। তাই মালিকের ভাগিনা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমরা তার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে শরিফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন চৌধুরী দৈনিক মুক্তকন্ঠকে জানান, আমরা নিহতের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি তার রেখে যাওয়া দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Exit mobile version