The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সরাইলে যাত্রার নামে চলছে অশ্লীল নাচগানের আসর

মোহাম্মদ মাসুদ , সরাইল থেকে ::ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যাত্রার নামে রাতভর হয়েছে উলঙ্গ নৃত্য। আর নৃত্যে মহিলার পাশাপাশি অংশ গ্রহন করেছে পুরুষও। রাত জেগে এ নৃত্য উপভোগ করেছে মধ্য বয়সের নারী পুরুষ ও স্কুল কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থী সহ দুই সহস্রাধিক লোক। শাহবাজপুরে মেলার প্যান্ডেল ভাঙ্গার মাত্র দুইদিন পর গত রোববার দিবাগত রাতে কালিকচ্ছের চানপুর নতুন বাজারের পাশের খালি জায়গায় হয়েছে এ নৃত্য। উপজেলা প্রশাসন না জানলেও যাত্রার তত্বাবধানে ছিল স্থানীয় সাবেক জনৈক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউপি সদস্য মোঃ আহসান উল্লাহ। স্থানীয় লোকজন জানায়, এলাকার কিছু যুবক মিলে এখানে যাত্রার আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে কিছু টাকা ও উত্তোলন করা হয়েছে। তাদেরকে সহযোগীতা করেছেন স্থানীয় কিছু সাবেক ও বর্তমান জন প্রতিনিধি। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে যাত্রার নামে এমন নৃত্য হবে এমনটা আগে কারো জানা ছিল না। মেয়ে শিল্পী আনা হয়েছে নরসিংদী থেকে। সরজমিনে দেখা যায়, সুন্দর মঞ্চ। রাত তখন ১১টা। মঞ্চের চারিদিকে শুধু মানুষ। প্রচারনা ছিল যাত্রার। কিন্তু বাস্তবে ছিল শুধু নৃত্য। তাও আবার আপত্তি জনক ড্রেস ও অঙ্গভঙ্গি। কখনো হেলে দোলে নেচেছে শুধু মেয়ে। আবার কখনো মেয়ে পুরুষ এক সাথে। আবেগে উত্তাল হয়ে নাচতে দেখা গেছে অনেক দর্শককে। নৃত্যের খবর শুনে শুধু কালিকচ্ছ নয় এক সময় সরাইল সহ আশপাশের এলাকা থেকে নানা বয়সের লোকজন আসতে শুরু করে। রাত যত গভীর হতে থাকে ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে লোক সমাগম। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে পাল্টে যেতে থাকে নাচের ধরন। শিল্পীরা মঞ্চ থেকে স্পর্শ করতে থাকে দর্শকদের। নাচে মাতাল হয়ে পড়ে দর্শকরা। শিল্পীদের হাত টেনে ধরে গুজে দিতে থাকে টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, এ ধরনের নৃত্য এলাকার উঠতি বয়সের ছেলে মেয়ের জন্য খুবই খারাপ। এখানকার সাবেক এক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউপি সদস্যের সহায়তায় ছেলেরা যাত্রার আয়োজন করতে পেরেছে। কালিকচ্ছ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ তকদির হোসেন বলেন, এখানে যাত্রা বা নাচ হবে এমনটা আমাকে কেউ বলেনি। আমি গানটান কখনো পছন্দ করি না। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, ওইখানে যাত্রা বা মেলা করার কোন অনুমতি আমার কাছে কেউ চায়নি। আমি কিছু জানিও না। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আহসান উল্লাহ যাত্রা হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সেখানে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এমপি সাহেবের সহযোগীতায় স্থানীয় কিছু যুবক ছেলে অনুষ্ঠানটি করেছে। আমাদেরকে শেষের দিকে জানিয়েছে।

Exit mobile version