
ধর্মীয় পোস্ট গুলোতে খুব কমই সাড়া পাওয়া যায়। মনে হচ্ছে, আমরা দিনকে দিন খুব বেশী আধুনিক হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি যে, এই রঙিন দিনগুলো একদিন অতীত হয়ে যাবে। বাহারি কসমেটিকসে যত্ন নেওয়া আমার এই মসৃণ ত্বকেও একদিন ভাঁজ পরে যাবে। যৌবনের সমাপ্তিও খুব বেশী দূরে নয়, হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছি জীবনের শেষ সীমান্তে। যেভাবে চলে গেলেন আমার বাপ-দাদারা। একটা সময় আসবে, যখন আমার অস্তিত্ব বলে এই পৃথিবীতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবেনা। অথচ এই ক্ষণিকের সময়ের জন্য আমরা এই দুনিয়াটাকে কতইনা আপন করে নিয়েছি। বাড়ি,গাড়ী,টাকা,পয়সা,ব্যাংক ব্যাল্যান্সের আত্মগরিমায় নিজের অস্তিত্বকেই ভুলতে বসেছি। আত্মীয়দের কাছ থেকে নিজেদের দূরত্ব সৃষ্টি করেছি। ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য ভাই হয়ে ভাইয়ের গলায় ছুরি ধরতেও হাত কাঁপেনা। আজ আমরা বড়ই হৃদয়হীনা হয়ে গেছি, বড়ই হৃদয়হীনা। কিন্তু আমি মনে করি, এখনো সময় ফুরিয়ে যাইনি নিজেকে বদলে ফেলার জন্য। আমার আল্লাহ্ বড়ই মেহেরবান। সেজদায় পড়ে দু’ফোটা চোখের জল আপনার আখিরাতের রাস্তাকে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে দেবে। দয়া করে সবার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন। একজনের বিপদে আরেকজন এগিয়ে আসুন। মিথ্যা পরিহার করুন, হারাম উপার্জন বর্জন করুন, অন্যকে ঠকিয়ে কখনো নিজে বড় হতে চেষ্টা করবেননা। একটি হাদিস বর্ণনা করে আমার লেখাটার সমাপ্তি টানতে চাই। আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেন, “আমি কেয়ামতের দিন ন্যায় বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারো প্রতি জুলুম হবেনা। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব। এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট।” সুরা আম্বিয়া, আয়াত-৪৭