The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

‘বাবাকে ধরে নেওয়ার সময় মোবারকের মুখে দাঁড়ি ছিল না’

ডেস্ক ২৪: ’৭১-এ হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন দেশান্তরসহ. মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের তৃতীয় সাক্ষী রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় মোবারক হোসেনকে দেখতে পাই। তখন তার দাঁড়ি ছিল না।

রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি সাক্ষ্য প্রদান করেন। জবানবন্দি ও জেরা শেষে মামলার পরবর্তী তারিখ ৯ জুন ধার্য করে দেন।

প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী খোদেজা বেগমের ভাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার টেংরাপাড়া সাতিয়ান গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার পিতা একজন আনছার কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৯ নভেম্বর দাদা-দাদী ও মাকে দেখতে বাড়িতে আসে। পরে ১১ নভেম্বর সকাল ৮/৯টার দিকে পাকিস্তান আর্মি ও রাজাকাররা আমার বাড়ির দিকে আসে।

সাক্ষী বলেন, তারা আমার বাবাকে ধরে হাত বেঁধে টানাহেচড়া করে সুহিলপুর রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এরপর আমার মা ও দাদী আমাদের গ্রামের মুসলিম লীগ খালেক মাওলানার নিকট যায় এবং বাবাকে ছাড়িয়ে আনার জন্য অনুরোধ করেন। খালেক মাওলানা তাকে ছাড়িয়ে আনার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরের দিন তিতাস নদীর পশ্চিম পাশে বাকাইল ঘাটে লাশ দেখিতে পাই।

সাক্ষী বলেন, আমার বাবাকে রাজাকাররা ধরে নিয়ে যাওযার সময় আমরা যখন রাজাকারদের পিছনের পিছনে যাই তখন রাজাকার কমান্ডার মোবারক হোসেনকে চিনতে পারি। তখন তিনি যুবক ছিলেন ও হালকা গড়নের ছিলেন, তার মুখে কোন দাঁড়ি ছিল না।

সেই রাজাকার কমান্ডার মোবারক হোসেন ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত আছে।

সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন মোবারকের আইনজীবী এএইচএম আহসানুল হক হেনা। জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করেন আদালত।

গত ২৫ ফেব্রয়ারি মোবারকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ১২ মার্চ অভিযোগ আমলে নিয়ে জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ১৬ মে সূচনা বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

Exit mobile version