The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

মেম্বারের গ্রাসে নিরীহ ব্যক্তির ১৬ শতক জমি

স্টাফ রিপোর্টার :ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের জেঠা গ্রামের ইউপি সদস্য আলী জাহানের বিরুদ্ধে গ্রামের এক নিরীহ ব্যক্তির জমি জোরপূর্বক গ্রাস করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৬ শতক পরিমান ওই জমিতে তিনি দু’দফা ফসল রোপন করে তা তুলে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জেঠা গ্রামের দ্বীন ইসলাম নামের ওই নিরীহ ব্যক্তি ইউপি সদস্যের গ্রাস থেকে তার জমি দখল মুক্ত করতে ইতিমধ্যে আদালতে একাধিক দেওয়ানী মামলা করেছেন।
মামলা ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, জেঠা গ্রামের দুবারের নির্বাচিত আলী জাহান মেম্বারের বসত বাড়ির সামনের গ্রাম্য সড়কের পাশে দ্বীন ইসলামের ৫৬ শতক ফসলি জমি রয়েছে। ২২, ১৮ ও ১৬ শতকের পৃথক তিনটি প্লটের ওই জমিগুলোর পৈতৃকসূত্রে মালিক তিনি। ৩৫ বছর আগে তার বংশদররা গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন। সেই থেকে জমিটি তার পরিবারের লোকজনের ভোগ-দখলেই রয়েছে। কিন্তু বছর দুয়েক আগে সড়ক লাগোয়া ওই  জমিগুলোর পাশে বাজার নির্মাণের জন্য আলী জাহান মেম্বারের চাচা লিলু মিয়া তার ব্যক্তি মালিকানাধীন পাঁচ শতক পরিমান জায়গা ওয়াকফ করে দেন। সেখানে বাজার নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটি ভরাট ও দেয়াল নির্মাণ করা হয়। এসময় দখলের উদ্দেশ্যে আলী জাহান মেম্বার দ্বীন ইসলামের ১৬ শতকের প্লটের এক শতাংশ পরিমান জায়গার ভেতরে দেয়াল নির্মাণ করেন। এ ঘটনার পর তিনি আদালতে মামলা করেন।
মামলা করার পর আলী জাহান মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে তার ১৬ শতক প্লটের পুরো জমি-ই লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক হালচাষ দেন। পরে সেখানে ইরি ধান রোপন করে ফসলও ঘরে তুলে নেন। এরপর দ্বীন ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালত জমির ব্যাপারে স্থিতাবস্থার নির্দেশ দিলেও চলতি মৌসুমে আলী জাহান মেম্বার সেই জমিতে আলু রোপন করেন। গত ২০ দিন আগে রোপন করা আলুও তুলে নেয় মেম্বারের লোকজন।
দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘আলী জাহান মেম্বার সিএস খতিয়ানে তার পূর্ব পুরুষদের নাম রয়েছে-এমন দোহাই দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এসে জমির মালিকানা দাবি করছেন। তিনি আমার পূর্বপুরুষের জমি ক্রয় ও ভোগ-দখলের ব্যাপারটি আমলে নিচ্ছেনা। শুধুমাত্র গায়ের জোর খাটিয়ে জমিটি দখলে নিয়েছেন। আদালতের নির্দেশকেও তিনি আমলে নিচ্ছেন না।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলী জাহান মেম্বার বলেন, ‘সিএস ও আরওআর খতিয়ানে আমার পূর্ব পুরুষদের নাম রয়েছে। এই জমি নিয়ে যেহেতু আদালতে মামলা চলছে তাই এ বিষয়ে আমি আর কোনো কিছু বলতে চাই না।’

Exit mobile version