The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

বাঞ্ছারামপুরে এক বাড়ীতেই ৯ মৌচাক !

সালমা আহমেদ :  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সদর উপজেলার বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের পৈত্রিকবাড়ী দূর্গারামপুরে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্য্যালয়ের পার্শ্ববর্তী জনৈক সৌদি প্রবাসী মো.আলম মিয়ার একতলা একটি নজরকাড়া দালানের চারপাশ ঘিরে ১/২টি নয়,রীতিমতো চমকে দেয়ার মতো লাখ-লাখ মৌমাছির সমন্ধয়ে ৯টি বেশ বড়োসড়ো মৌচাকের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত তিন মাসে একে-একে মৌচাকের সংখ্যা বাড়তে-বাড়তে বর্তমানে দালানটির দরজার-জানালা-দালানের কার্ণিশ,ছাঁদ,ভীম,ভেন্টিলেটারসহ যেখানেই পারছে মৌমাছির দল ক্রমান্ধয়ে মৌচাকের সংখ্যা বাড়িয়েই চলেছে।বাড়ীর গৃহকর্তী প্রবাসীর স্ত্রী সামসুন্নাহার বেগম,প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,-বর্তমানে বাড়ীর গৃহকর্তী বেশ বিড়ম্বনা ও রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে নানান শ্রেণী ও ধর্মের অনুসারী দর্শনার্থীদের সামলাতে।সকাল-বিকাল কেবল একনজর দেখার জন্য প্রতিনিয়ত ভীড় করছে বলে জানা গেছে। সুশৃংখল ও অতিপরিশ্রমী লাখ-লাখ মৌমাছির দল বাড়ি ও বাড়িটিতে বসবাসরত সদস্যদের সাথে ধীরে-ধীরে হ্নদ্যতার সম্পর্ক গাঢ় থেকে আরো গাঢ় হওয়ায় মানুষ ও বিষাক্ত হুল ফুটানোর মতো অস্ত্র নিয়েও মৌমাছিগুলোর মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বন্ধুতা।কেউ কারো ক্ষতি কনেনি।করার চেষ্টাও করা হয়নি-জানান বাড়িতে বসবাসরত প্রবাসীর পর্দাণশীল স্ত্রী।বাড়িটির সামনেই হাজার হাজার হেক্টর রবিশষ্য চাষ করেছে স্থানীয় কৃষক।সেখানে সরিষা,তিল,ঢেড়স,লাউ-কুমড়োর ফুলের রেণু থেকে সুস্বাধূ মধু কণিকা লাখে-লাখে দারুন পরিশ্রমী মৌমাছিগুলো দিনভর একটু একটু করে মধূ জমা করছে তাদের কষ্টে গড়া ৯টি মৌচাকের মধূতে পরিপূর্ণ চাকগুলোতে।স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে,বহুলোক মনে করছেন বাড়িটি অত্যন্ত পবিত্র বা সৎ উপার্জনে সৃষ্ট বা বাড়ির মালিক এমন কোন পূর্ণবান কর্ম করেছে যার কারনে পাশে এতো গাছ-গাঁছালি,বন বা আরো বাড়িঘড় থাকা সত্বেও কেবল সৌদি প্রবাসী আলম মিয়ার বাড়িটিকেই তাদের নিরাপদ আবাসস্থল বলে মনে করছেন।প্রতিবেশী ও দর্শণার্থীদের অনুরোধে সম্প্রতি মধূর ভারে নূ্যঁয়ে পড়ায় দুটি মধূর চাক বাড়ীর গৃহকর্তী কাঁটার পর এই দুটি থেকে তিনি প্রায় ২৩ থেকে ২৫ কেজি পরিমান মধূ আহরন করে তা বিনামূল্যে প্রতিবেশী ও আগ্রহী দর্শণার্থীদের খেতে দেন। জানা গেছে, মৌমাছির দল এতে মোটেও রাগ করেনি। বরং-সেখানে ফের পুনরায় মৌচাক গড়ে তুলছে। অনেকে মনে করছেন বাড়ীর সদস্যদের সাথে হ্নদ্যতার কারনে কেমন যেন বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে ।

কৃষি সম্প্রসারন,কৃষি বিভাগের এবং মৌমাছি নিয়ে অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য
এ বিষয়ে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কি-না জানতে চাইলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আ.ন.ম নোয়াখেরুল ইসলাম, মৌমাছি চাষের উপর বিশেষভাবে সম্যকজ্ঞাণলব্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারন ও কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো.মহসিন আহসান জানান,- “মৌমাছির বিশেষত্ব হলো-মৌচাকসৃষ্টির মতো কোন বাধা,নিরাপত্তা,বিরক্তি ও কোন ক্ষতি যেখানে না হবে,সেখানটাতেই তারা কষ্টলব্ধ মৌ আহরণ করে মৌচাক সৃষ্টি করে।মৌমাছিরা এরজন্য সাধারনত বন-জঙ্গলকে বিশেষভাবে বেছে নেয়,কোলাহলমুক্ত থাকায়।মৌমাছি ৬০ ডিগ্রী এঙ্গেলে বা বর্ষিয়ান কোন শক্ত গাছের ঢালু হয়ে যাওয়া ডাল-পালাতে মৌচাক সৃষ্টি করতে পছন্দ করে।কিন্তু,বাঞ্ছারামপুরে একটি দালানের প্রায় সর্বত্র ৯টি মৌচাক সৃষ্টি হওয়াটা অবশ্যই বিরল ঘটনা-ই বলতে হবে।মৌমাছিগুলো,- বাড়িটিতে বেশ স্বস্থ্যিতেই আছে বলে মনে হলো। মধূ আহরনের পরিবেশবান্ধব মৌচাকসৃষ্টির পরিবেশ আছে বলে মৌমাছিগুলোর কাছে মনে হওয়ায়,- আগামী দিনে মৌচাকের সংখ্যা আরো বেড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।তবে,এখানে কোন আধ্ব্যাত্বিক বিষয় আছে কি-না আমাদের জানা নেই”।

বাড়ীর গৃহকর্তী যা বললেন-
মৌচাকের মধূর সাথে সাথে মৌমাছি এতো মৌচাক নিয়ে ভাগ্যবান না-কি বিড়ম্বণায় পড়েছেন-এমন প্রশ্নেরমুখে তিনি আত্বতৃপ্তিসহ গর্বিতের মতো বলেন,-“জগতের সকল প্রাণী আল্লাহর সৃষ্টি।মানুষ-মানুষে এতো বিবাদ।লোভ ও আত্বকেন্দ্রিক হওয়ায় মানুষ আজ ক্রমেই হিংসাত্বক হয়ে পড়ছে।ভাই-ভাইকে এক বাড়ীতে ঠাঁই দিচ্ছে না।বৃদ্ধা মা বা পিতাকে সন্তান স্বাবলম্বী হয়ে আলাদা করে দিচ্ছে।হয়তো সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এটি একটি নজির স্থাপন করে উদহারন সৃষ্টি করে মানুষকে দেখাতে চেয়েছেন। মানুষ ও হুঁলে বিঁষ থাকা লাখ-লাখ মৌমাছি কি করে সহঅবস্থান করা যায়,সবাই দেখো।সবই আল্লাহর ইচ্ছা।”
একটি ঘণবসতিপূর্ণ মহল্লার একটি দালানে এক সাথে ৯টি মৌচাকের ঘটনাটি- এখন এলাকায় বেশ মুখরচক গল্পে পরিণত হয়েছে।

Exit mobile version