The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

কুমিল্লা কারাগারে ১ জনের ফাঁসি কার্যকর

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বশির মিয়া নামে এক আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সোহেল হত্যা মামলায় ওই আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বশিরের লাশ তার স্ত্রীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৩ অক্টোবর আখাউড়া উপজেলার আদিলপুর গ্রামের একটি ধান ক্ষেতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আখাউড়া থানাকে জানায়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে নিহতের প্যান্টের পকেটে থাকা কাগজপত্রে ওই ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করে। এ ঘটনায় আখাউড়া থানার ওসি সামছুদ্দিন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তে পুলিশ এ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি-পাতিল ব্যবসায়ী ওই উপজেলার বশির মিয়া ও চাঁন মিয়াকে গ্রেফতার করে। আসামিরা নিহতের নিকট আত্মীয় ছিলো। সোহেলের বাড়ি মাদারীপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায়।
গ্রেফতারকৃত বশির মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। বশির, চান মিয়া ও সোহেল একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ্যালুমিনিয়ামের মালামালের ব্যবসা করতো এবং ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে সোহেলকে হত্যা করা হয়।
ওই মামলায় স্বাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ২০০২ সালের ২৬ জানুয়ারি সোহেল হত্যা মামলায় বশির মিয়াকে (৪২) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন। ওই রায়ের পর হাইকোর্টে আপিল করা হলেও রায় বহাল থাকে। পরে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করা হলে তাও না-মঞ্জুর করা হয়। বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে জল্লাদ ফারুক, খোরশেদ, শুক্কুর ও মান্নান ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বশির মিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোঃ রেজাউল আহসান, ডিআইজি (প্রিজন) মো: ফজলুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আবুল কালাম সিদ্দিক, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইলতুৎমিশ, জেল সুপার জামিল আহমেদ চৌধুরী, জেলার নাছির আহমেদ। বুধবার সকালে বশির আহমেদের মা হাজেরা বেগম স্ত্রী আলেয়া বেগম,মামা জলিল মিয়া, অপর ভগ্নিপতি দেলোয়ার হোসেন জেল খানায় তার সাথে দেখা করে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর রাত ৩ টায় তারা বশিরের লাশ নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায়।  বশির আহমেদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

Exit mobile version