
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে আত্মগোপনে থাকা বঙ্গবন্ধুর দণ্ডিত খুনীদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও সে দেশের সরকারের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ভারত সরকার দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করেছেন সাহারা খাতুন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনা সদস্য ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে হানা দিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। ওই মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা, মহিউদ্দিন আহমেদ ও এ কে এম মহিউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বাকি ৭ জনের মধ্যে মোসলেহউদ্দিন ও আব্দুল মাজেদ বতর্মানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া, আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী ও এম এ রাশেদ চৌধুরীও বিদেশে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের পরোয়ানাও রয়েছে। দণ্ডিত আব্দুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান।
গত ২৪ ফেব্র“য়ারি সাহারা খাতুনের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাহারা খাতুন সোমবার মন্ত্রিসভাকে জানান, প্রতিবেশী দুই দেশের স্থলসীমা, জলসীমা, ভিসা প্রক্রিয়া ও মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল সহজ করা এবং সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে সন্ত্রাস দমন, নারী ও শিশু পাচার রোধ ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়েও। সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানালে ভারত সরকার ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধের পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।