The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

৩ ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জোরপূর্বক দোকান দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ৩ ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন এক মা।

সম্প্রতি সদর মডেল থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন ওই মা। সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের হোয়াজের বাড়ির মৃত আবদুল হাইয়ের স্ত্রী আমেনা খাতুন তার এ মামলায় আপন ৩ ছেলে আবুল খায়ের(৫২), মো. ইমরান হোসেন (৪৫) ও মোশারফ হোসেন (৪০) ছাড়াও তাদের ভাড়াটিয়া নাটাই গ্রামের আবদুর রশিদ মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমানকে (৪০) আসামি করেছেন।

এজাহারে বলা হয়, বাদী আমেনা খাতুন আমৃত্যু বটতলী বাজারের ৮টি দোকানের ভাড়া ভোগদখল করবেন এই শর্তে তার স্বামী আবদুল হাই তাদের ৫ ছেলের নামে মালিকানা হস্তান্তর করেন। ছেলেরাও মায়ের ভাড়া ভোগ দখলের বিষয়ে অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। এই অবস্থায় গত ২০ জানুয়ারি সকালে ৩ ছেলে আবুল খায়ের, ইমরান হোসেন ও মোশারফ হোসেন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে মায়ের ভোগদখলে থাকা দোকানগুলো দখল করতে ভাঙচুর চালায়। ওইসব দোকানে থাকা ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ভাঙচুর-লুটপাটের সময় বাড়িতে মা আমেনা খাতুনকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং গলায় ছুরি ধরে গলাকেটে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় তাদের আরেক ভাই মো. আলী হোসেনকে। হামলাকারীরা ওইসব দোকান ঘরের একটির ভাড়াটিয়া রাহিম মিয়ার আইসক্রিম ফ্যাক্টরি থেকে মোটর, ফ্রিজ এবং অন্যান্য মেশিনারিজসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আরেকটি দোকনঘরের ভাড়াটিয়া আশরাফুল ইসলামের ডেকোরেটর থেকে ২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেওয়া হয়। আরমান খানের ওষুধের দোকানে প্রবেশ করে ১ লাখ টাকার ওষুধ নষ্ট করা হয়। লোকমানের ফাস্টফুডের দোকান ভাঙচুর করে ২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। এছাড়াও মো. শাহাব উদ্দিনের দোকান, শাহ জামালের খাবার হোটেল এবং রেহান উদ্দিনের চায়ের দোকান ভাঙচুর করে আরও লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। পাকা দোকান ঘর ভাঙচুরের মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকার স্থায়ী সম্পদের ক্ষতি করা হয়। পরে এ ঘটনায় কোনো মামলা-মোকদ্দমা করলে মা আমেনা খাতুন ও ভাই আলী হোসেনকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোশাররফ হোসেন জানান, মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

Exit mobile version