The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

২৭ নভেম্বর ৪২তম ঐতিহাসিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আন্দোলন ও শহীদ পলু দিবস

শহীদ পলুর অঙ্কিত ছবি ও এ আই দিয়ে বানানো ছবি

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ৪২টি বছর। সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সংগঠিত বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহাসিক জেলা আন্দোলনের চূড়ান্ত দিন ২৭ নভেম্বর ৪২তম জেলা আন্দোলন ও এতে শহীদ ওবায়দুর রউফ পলু’র শাহাদাৎ বার্ষিকী দিবস।

১৯৮৩ সালের শেষ দিকে মহকুমা হতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে তৎকালীন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের নিকট দাবি জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরামর্শক্রমে পর্যায় ক্রমিক বিভিন্ন ধরণের টানা কর্মসূচীতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেন। তাদের সাথে একাত্ম হয় সকল সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। এতে বিচলিত হয়ে সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মহকুমা হতে থানায় অবনমিত করায় সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর।

নভেম্বর মাসে দিনের পর দিন জুড়ে দিবারাত একটানা হরতালে অচল হয়ে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব অফিস। ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সংবাদপত্রে গুরুত্ব সহকারে ছাপা হতে থাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা আন্দোলনের কর্মসূচী। দিন রাত সড়ক জুড়ে অবস্থান নেয় আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র জনতার ভীর।

২৭ নভেম্বর দিন হরতাল চলাকালে সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে ষ্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। ছাত্র জনতার অবস্থানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং রেলওয়ে ষ্টেশন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এদিন সকালে রেলওয়ে ষ্টেশনে জনতার সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে রেলব্রীজে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে শাহাদাৎ বরণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র ওবায়দুর রউফ পলু। ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্র জনতা রেলওয়ে ষ্টেশন, সিও অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করে। ছাত্র জনতা কেড়ে নেয় ওবায়দুর রউফ পলু’র লাশ।

দুপুরে শোকাবহ পরিবেশে নিয়াজ মোহাম্মদ হাই স্কুল মাঠে লক্ষ মুসল্লীর অংশগ্রহণে জানাজার পর শহরতলীর শেরপুর কবরস্থানে পলুর দাফন সম্পন্ন হয়। এরই মধ্যে শহরে সশস্ত্র অবস্থান নেয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট হতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগত সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান। রাতে শহরের বিভিন্ন মহল্লায় রেইড দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করে ঐতিহাসিক জেলা আন্দোলনের অনেক নেতাকে। ২৮ নভেম্বর সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ চালু হয়। এর ভিত্তিতে ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে বিশাল জনসভায় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ গুরুত্ববহ ভাষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ৪৫টি মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন । যা এখনো বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে নথিভূক্ত রয়েছে।

Exit mobile version