The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

১৫০ বছর পূর্তিতে অন্নদা স্কুলে সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর মিলনমেলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বিদ্যাপীঠ অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ১৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‌‘আলোকিত ১৫০ সুন্দর পৃথিবীর জন্য আমরা’ স্লোগানে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী আনন্দ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যালামনাই অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্নদা এক্স স্টুডেন্ট সোসাইটি (আবেশ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শহরের বোর্ডিং মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই ১৯৫১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। এ সময় নবীন-প্রবীণের সম্মিলনে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নান্দনিক ডিসপ্লে প্রদর্শন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা প্রদর্শন করেন লাঠিয়ালরা। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের পুরাতন জেল রোড, হাসপাতাল সড়ক, পুরাতন কাচারি পুকুরপাড় ও হালদারপাড়া প্রদক্ষিণ শেষে অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক, জেলার বিভিন্ন দফতরের প্রধান কর্মকর্তাসহ প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

আবেশের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল সাজ্জাদুল হক, আবেশের সভাপতি বিমানবাহিনীর সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন সগীর আহমেদ, সহসভাপতি ইমাম শাহীন, খায়রুল ইসলাম শামীম, মো. মুমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম মিথিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজহার খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুনসহ অনেকেই এই অনুষ্ঠান সফলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আবেশের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান, র‍্যাফেল ড্র, জিপিএ প্রাপ্ত ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা, বর্তমান ছাত্রদের পরিবেশনাসহ নানা কর্মসূচি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৮৭৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন জমিদার অন্নদা প্রসাদ রায়। এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সমগ্র জাতির শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুলটি দেশের রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রশাসনের অসংখ্য কৃতী ব্যক্তিত্ব উপহার দিয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি

Exit mobile version