The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

১৪ দিন নিখোঁজের পর মিলল সফিকুলের পরিচয়, পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর

নিখোঁজ হওয়ার ১৪ দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের একটি বিল থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয়ের এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তার নাম সফিকুল ইসলাম (৫০)। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত সব প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তার দাফন সম্পন্ন হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বিজয়নগর থানার তত্ত্বাবধানে মানবিক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সহযোগিতায় সফিকুল ইসলামের ছোট ভাই রফিকুল ইসলামের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তার কাকা শিশন মিয়া, ভাগিনা মো. রবিউল্লাহ, চাচাতো ভাই সোহাগ মুন্সী ও সারোয়ার মুন্সী উপস্থিত ছিলেন।
মরদেহ হস্তান্তরের আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের পক্ষ থেকে কাফনের কাপড় দেওয়া হয়। এছাড়া দূর থেকে মরদেহ নিতে আসা স্বজনদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করা হয়।
নিহত সফিকুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দনা ইউনিয়নের বাড়ানী গ্রামের মালন মিয়া ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী আকলিমা বেগম, তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে শামিমার বিয়ে হয়েছে। মেজো মেয়ে রিমা (১২), ছোট মেয়ে রাহিমা (৫) এবং একমাত্র ছেলে সিয়াম (২০) রয়েছেন। পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বুধবার সকাল ১০টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের তারাডোবা বিল থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়াতেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে পুরোনো সড়ক দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় তথ্যভান্ডারে যাচাই করলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়।
এদিকে মৃত্যুর তিন দিন পর এবং নিখোঁজ হওয়ার ১৪ দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত অজ্ঞাত মরদেহের সংবাদ ও ছবি দেখে সফিকুল ইসলামের স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিজয়নগর থানা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। প্রায়ই তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে যেতেন এবং কিছুদিন পর আবার ফিরে আসতেন। সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই সকালে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (১ আগস্ট) ভোরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বুঝে নেন। পরে সকাল ৯টার দিকে নিজ গ্রামের বাড়ানী উত্তরপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহতের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা অনেক জায়গায় খোঁজ করেও ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাইনি। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবি দেখে যোগাযোগ করি এবং নিশ্চিত হই এটি আমার ভাইয়ের মরদেহ। সহযোগিতার জন্য পুলিশ, পিবিআই ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “অজ্ঞাত মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে আমরা শুরু থেকেই পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, “মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
Exit mobile version