The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সুরকি বসিয়ে বন্ধ সড়কের কাজ, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের তিন গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে শুরু হওয়া সড়ক পাকাকরণের কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে ইটের সুরকি বসানোর পর আর কোনো কাজ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
শাহজাদাপুর, ধাউরিয়া ও নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, স্বাধীনতার পর থেকেই তারা কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছেন। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে ঠেলে নিতে হয়।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০২৪ সালে মলাইশ-শাহজাদাপুর সড়কটি পাকাকরণের কাজ শুরু হয়। মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে সড়কে ইটের সুরকি বসানোর কাজ শেষ হয়। এরপর থেকে সড়কটির আর কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি।
সরাইল উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সড়কটির নির্মাণকাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই আংশিক বিল উত্তোলন করেছে এবং নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের ইটের সুরকি গুঁড়ো হয়ে ধুলায় পরিণত হচ্ছে। সামান্য বাতাসেই ধুলো পথচারীদের চোখ-মুখে পড়ছে। বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের চাপে গর্তও তৈরি হয়েছে।
শাহজাদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শেখ মো. জুয়েল বলেন, যুগ যুগের অপেক্ষা ও ভোগান্তির পর সড়কটির পাকাকরণের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। দ্রুত কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ না হলে সড়কটি আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
সরাইল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ছিবগাতউল্লাহ খন্দকার বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর কথা হয়েছে। শিগগিরই সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।
Exit mobile version