The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সাদা চুল কালো করে পালাচ্ছিলেন কুমিল্লায় জোড়া খুনের আসামি, আখাউড়ায় যেভাবে ধরা পড়লেন

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ ওরফে আবু (৫৮) গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের সাদা চুল কালো করে চেহারায় পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। পরে ট্রেনে করে পালানোর সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এর আগে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে মোস্তাকের স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) ও পালিত মেয়ে ইতি (১৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। এ সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম শাহসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে খালেদা আক্তার ওরফে বেবি (৭০) ও তাঁর ভাতিজা মঞ্জুরুল আলম ওরফে তুতু (৩৫)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মোস্তাক আহমেদ নিহত খালেদা আক্তারের আপন ছোট ভাই এবং মঞ্জুরুলের চাচা।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই মোস্তাক তাঁর স্ত্রী ও পালিত মেয়েকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি চুলের রং বদলে ফেলেন। পাকা সাদা চুল কালো করে নিজের চেহারায় পরিবর্তন আনেন। প্রথমে ট্রেনে করে সিলেটে যান। সেখানে নিজেকে নিরাপদ মনে না করায় গতকাল পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে চট্টগ্রামের দিকে রওনা দেন।
তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি পুলিশ। পরে আখাউড়া এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে ডিবির একটি দল অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে হনুফা বেগম ও ইতি গ্রেপ্তার হন। পরে মোস্তাকের অবস্থান শনাক্ত করে আখাউড়া এলাকায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের একটি জমি বিক্রি করা নিয়ে মোস্তাকের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বিরোধ চলছিল। জমিটির আনুমানিক বাজারমূল্য আট লাখ টাকা। জমি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
সম্প্রতি ওই জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন মোস্তাক। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর ভাতিজা মঞ্জুরুল জমিটির সামনে একটি ব্যানার টানিয়ে জমিটি না কেনার অনুরোধ করেন। এরপর বিরোধ আরও তীব্র হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এর জেরেই সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও মঞ্জুরুলকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত খালেদা আক্তার স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। মঞ্জুরুল ছিলেন তাঁর বড় ভাইয়ের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, খালেদা আক্তারকে আঘাত করার সময় তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মঞ্জুরুলও হামলার শিকার হন।
পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে দাউদকান্দির গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
Exit mobile version