ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এক নারী রোগীকে অন্যত্র নেওয়ার সময় ইয়াছমিন নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এক নারী রোগীকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় ইয়াছমিনকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি হাসপাতাল থেকে রোগী সংগ্রহ করে অন্যত্র নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াছমিন নিজেকে সরাইলের আনন্দ মেডিকেলের বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং প্রতিষ্ঠানটির হয়ে এ ধরনের কাজ করার কথা জানান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এন. এম. কায়সার। এ সময় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ও ৫২ ধারায় ইয়াছমিনকে সতর্কতামূলকভাবে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এন. এম. কায়সার বলেন, “সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীকে অন্যত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি অনুসরণ করতে হবে। হাসপাতাল থেকে রোগী অন্যত্র নেওয়ার বিষয়ে কোনো অনিয়ম বা রোগীকে প্রভাবিত করার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট নারীকে সতর্কতামূলকভাবে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী অন্যত্র নেওয়ার বিষয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি রাখা হবে।”
এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী অন্যত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের প্রতিনিধিদের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রভাবিত করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে রোগীকে কোন পরিস্থিতিতে এবং কার অনুমতিতে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়টি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
