ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের নাইলা ও শোলাবাড়ি এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত জাফর খালের ওপর প্রায় ২৫ বছরেও একটি সংযোগসেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ। বছরের পর বছর এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পানিশ্বর ও চুন্টা ইউনিয়নের অন্তত ১৫ থেকে ২০ গ্রামের বাসিন্দারা উপজেলা সদর, জেলা শহর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের জন্য এই পথ ব্যবহার করেন। সেতু না থাকায় প্রতিবছর স্থানীয়দের চাঁদায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে সাঁকোটি উঁচু করে নির্মাণ করতে হওয়ায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। পারাপারে জনপ্রতি পাঁচ টাকা করে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবল স্রোতে প্রায়ই সাঁকোটি ভেঙে যায়। এরপরও বছরের সাত থেকে আট মাস ওই সাঁকোই ভরসা হয়ে থাকে কয়েকটি গ্রামের মানুষের। প্রতিবছর সাঁকো থেকে পড়ে দুর্ঘটনা ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। অতীতেও খাল পার হতে গিয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৌহিদ মিয়া বলেন, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনস্বার্থে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী ছিবগাত উল্লাহ জানান, ওই স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যও এ বিষয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। অনুমোদন পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
