The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সরাইলে সড়কে পিষ্ট হয়ে অজ্ঞাত যুবক নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে একাধিক গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তবে দুর্ঘটনায় তার মরদেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন ও খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাওয়ায় এবং মুখমণ্ডল ও হাতের আঙুলের অংশ না পাওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে এখন ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সরাইল উপজেলার শ্রীডোবা এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে ওই যুবকের খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল বাতেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবকের মরদেহের খণ্ডিত অংশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বিষয়টি জানানো হলে তারা জানায়, মরদেহের হাতের আঙুল স্পষ্টভাবে পাওয়া না যাওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় পরিচয় নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, “অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহটি একাধিক গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মুখমণ্ডলসহ শরীরের অনেক অংশ পাওয়া যায়নি। হাতের আঙুলও নেই, তাই ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া সম্ভব হয়নি। শরীরের যতটুকু অংশ পাওয়া গেছে, তা সংগ্রহ করে বস্তাবন্দি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুধু যৌনাঙ্গ দেখে নিহত ব্যক্তি পুরুষ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।”

পুলিশের পাশাপাশি অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্তে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। কোনো স্বজন নিখোঁজের ঘটনায় ওই যুবকের সঙ্গে মিল পেলে সংশ্লিষ্টদের হাইওয়ে পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহটি সেখানেই সংরক্ষণ করা হবে।

Exit mobile version