The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সরাইলে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মোহাম্মদ মাসুদ,সরাইল :: সরাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। গতকাল দিনভর সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের দু’পাশে কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় পরিচালিত হয়েছে এ অভিযান। নোটিশ ও মাইকিং এর পরও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় বোল্ড ডোজার দিয়ে ঘুরিয়ে দিয়েছে। তবে তড়িঘড়ি করে অনেককে মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। এ খবরে হাসপাতাল মোড় এলাকায় দ্রুত যারযার স্থাপনা সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

সওজ ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, সরাইলের বিশ্বরোড মোড় থেকে কালিকচ্ছ বাজার পর্যন্ত সড়কের দু’পাশের সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ও জেলা পরিষদের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। জায়গা সরকারি হলেও একটি চক্র কৌশলে জায়গার দখল নিয়ে খুঁটি বসায়। পরে বড় অংকের জামানত নিয়ে এলাকার লোকজনের কাছে মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দেয়। দোকান ঘর বা যেকোন স্থাপনা করে নিতে হবে ভাড়াটিয়াকে। প্রভাবশালীরা শুধু দখল সূত্রে মালিক। এভাবে সড়কের দুপাশে জায়গা দখল করে শতশত স্থাপনা গড়ে ওঠেছে। ফলে সড়কের পাশে লোকজনের দাঁড়ানোর জায়গা নেই। সড়কের উপরেই বসছে হাট। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও রোগীদের দূর্ভোগ বেড়েই চলেছে। আর সকাল দুপুর বিকেল ও রাতে সড়কে যানজন নিত্যদিনের বিষয়।

সরাইল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফারজানা প্রিয়াঙ্কা এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-জেলা সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী খন্দকার নেছার আহমেদ, সার্ভেয়ার টিঙ্কু চাকমা প্রমূখ। কালিকচ্ছ এলাকা শেষ করে সরাইলে অভিযান পরিচালনা করেন। স্থানীয়রা জানায়, দখলদারদে তান্ডবে আমরা অসহায়। এমন অভিযান তো বছরে ২/১ বার হচ্ছে। কোন লাভ নেই। অভিযান শেষ করে যাওয়ার পরই আবার দখলদাররা স্থাপনা দাঁড় করে বসে পড়ে। একজনের দখলেই আছে ৩-৪টি দোকান। জায়গা দেখিয়ে দিলেও মাস শেষে ভাড়া গুনতে হয়। এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করা দরকার। নতুবা কখনো একেবারে বন্ধ হবে না। গত ৫ আগষ্ট হাসপাতাল মোড়ে অভিযান চলাকালে গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরে বন্ধ হয়ে যায় উচ্ছেদ অভিযান। আবার অভিযান শুরুর আগে বা চলাবস্থায় রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু ভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নানা কারণে অনেক টাকা ওয়ালা লোকজন ভাঙ্গন থেকে পরিত্রাণ পেয়ে যায়।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফারজানা প্রিয়াঙ্কা বলেন, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কালিকচ্ছ এলাকা শেষ করে অন্য জায়গায় যাব। কোন দখলদারই পার পাবে না।

Exit mobile version