The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সরাইলে ভবঘুরে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, ফিঙ্গারপ্রিন্টেও মিলল না পরিচয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের আনুমানিক বয়স ৭০ বছর। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় তথ্যভান্ডারে যাচাই করলেও এখন পর্যন্ত তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পাকশিমুল বাজারে মোতালেব মেম্বারের নতুন একচালা বারান্দায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে অজ্ঞাত ওই মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ পাকশিমুল বাজারে এসে অবস্থান নেন। তিনি নিজের নাম-পরিচয় বা ঠিকানা বলতে পারতেন না। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা মানবিক কারণে নিয়মিত তাকে খাবার দিতেন। তিনি কারও কাছে খাবার চাইতেন না এবং এলাকাবাসীর কোনো ধরনের ক্ষতিও করেননি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি বারান্দায় অবস্থানরত অবস্থায় মারা যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়৷ ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হাসপাতালের মর্গে এসে মৃত বৃদ্ধের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। তবে যাচাইয়ের সময় একাধিক ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর ইনস্পেক্টর শাহজালাল বাবুল জানান, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় তথ্যভান্ডারে যাচাই করে প্রথমে একজন নারীর তথ্য পাওয়া যায়। পরে আরেকটি তথ্যে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর এলাকার মো. আবুল হারেজ সরকার (১০৮) নামে এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু বয়স, ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মৃত ব্যক্তির কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও ওই নামে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মিলের ক্ষেত্রে কোনো অসঙ্গতি বা ‘মিসম্যাচ’ হয়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “অজ্ঞাত বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্তে পিবিআই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করছে। তবে একেকবার একেক নাম ও ঠিকানা আসায় এখনো তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বজনদের সন্ধান না পাওয়া গেলে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-কে অবহিত করা হবে
Exit mobile version