The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সরাইলে দেশীয় অস্ত্র সমর্পণ করে শান্তির পক্ষে শপথ নিলেন কালীকচ্ছবাসী

মোহাম্মদ মাসুদ, সরাইল ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সমাবেশ করে পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দেশীয় অস্ত্র সমপর্ণ করে শান্তির পক্ষে শপথ নিয়েছেন কালীকচ্ছ ইউনিয়নবাসী। সরাইল থানা পুলিশের আহবানে মঙ্গলবার বিকেলে কালীকচ্ছ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শান্তির পক্ষে শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান।

কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শরাফত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতীপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন, উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতীপ্রাপ্ত) মকবুল হোসেন, সরাইল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও ইউনিয়ন পরিষদের ৭ জন চেয়ারম্যানসহ কালীকচ্ছ ইউনিয়নের নানা শ্রেণি পেশার সহস্ত্রাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি আনিসুর রহমান বলেন, ‘সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় দাঙ্গা-ফ্যাসাদ হতে পারে না। ঐতিহ্যবাহী সরাইল উপজেলা শুধু দাঙ্গা-ফ্যাসাদের কারণে কলঙ্খিত হচ্ছে। সরাইলকে দাঙ্গামুক্ত করে এর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে সুদ্ধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্ত্র সমর্পণের পর কেউ দাঙ্গায় লিপ্ত হলে কাউকে আর ছাড় দেয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান বলেন, আমিও গ্রামের সন্তান। আমি দেখেছি দাঙ্গাবাজরা সমাজের জন্য কী পরিমাণ ক্ষতির কারণ হতে পারে। দাঙ্গাবাজ কাউকেই ছাড় দেব না। আমি জানি এখানকার ৯৫ শতাংশ লোক শান্তি চায়। আর বাকি অংশ দাঙ্গা-ফ্যাসাদ করে ফায়দা লুটে। আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষের পক্ষে। আমরা ওই ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেব। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। আমি আপনাদেরই সন্তান। আমি এখানকার শান্তি চাই। গুটি কয়েকজনের কারণে সাধারণ নাগরিকগণ অশান্তিতে থাকতে পারে না।’
সমাবেশে উপস্থিত সহস্ত্রাধিক লোক ওসির আহবানে সাড়া দিয়ে হাত তুলে শপথ নিয়ে দাঙ্গা না করার অঙ্গীকার করেছেন। পরে ইউনিয়নবাসী কয়েক শ লাঠিসোঠা ও বল্লমসহ নানা প্রকার দেশীয় অস্ত্র পুলিশ প্রশাসনের কাছে সমর্পণ করেন।

Exit mobile version