
ডাকাতের কবলে পড়া ইছহাক মিয়া ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নাসিরনগর উপজেলার মহিষবেড় গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে ইছহাক। তিনি ঢাকায় একটি ব্যাগ তৈরীর কারখানার মালিক। শনিবার রাতে ইছহাক ঢাকা থেকে গ্রামে যাওয়ার উদ্যেশ্যে সরাইলের বিশ্বরোড মোড়ে নামেন। পরে নাসিরনগর গামী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ চারজন যাত্রীসহ একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা তার সামনে এসে দাঁড়ায়। চালক নাসিরনগর একজন বলে ডাকতে থাকে। ইছহাক এগিয়ে গিয়ে কুন্ডা যাওয়ার কথা বলা মাত্র পেছনের এক যুবক নেমে তাকে মাঝখানে বসায়। অটোরিকশাটি কালিকচ্ছ বাজার পেরিয়ে ধর্মতীর্থ ব্রীজের কাছে যাওয়া মাত্র পেছনের যাত্রীবেশের দুই ডাকাত ছুঁড়া দেখিয়ে ইছহাকের গলায় ছিপে ধরে জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা তার মানিব্যাগ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন সেট ও বাজার ভর্তি একটি বড় ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা। পরে ইছহাককে মারধর করে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে ডাকাতদল দ্রুত গতিতে কালিকচ্ছের দিকে রওয়ানা দেয়। ইছহাকের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের জেলেরা দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। অটোরিকশাটি আটকের জন্য কালিকচ্ছ বাজারের একাধিক লোককে মুঠোফোনে জানিয়ে দেয়। বাজারের লোকজন দুই ডাকাতসহ অটোরিকশাটি আটক করে। এর আগেই আরো দুই ডাকাত পালিয়ে যায়। পরে তাদেরকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশের কাছে তারা ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে। তাদের দলের আরো সদস্যের নাম বলেছে।
আটককৃত ডাকাতরা হল মালিগাঁও গ্রামের দুধ মিয়ার ছেলে কামাল (১৯) ও সৈয়দটুলা গ্রামের আবদু মিয়ার ছেলে মোশারফ (২০)। তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া ৭ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোনসেট, বেশ কিছু কাপড় ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি বড় ছুঁড়া উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতদের বহনকারী ‘মায়ের দোয়া’ নামক নিবন্ধন বিহীন অটোরিকশাটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় ইছহাক বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে অজ্ঞাতনামা দুইজন সহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলী আরশাদ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।