ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল এলাকায় তিতাস নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর জিহাদ (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। নিহত জিহাদ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার খাসতাল গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জিহাদ নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে এলাকার একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, খেলাধুলার একপর্যায়ে শিশুটি অসাবধানতাবশত তিতাস নদীর পানিতে পড়ে যায়।
এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন দিনভর নদীতে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি। বিষয়টি জানানো হলে অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই টিপু সুলতান সরাইল ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সন্ধ্যা নেমে আসায় এবং রাতের অন্ধকারে উদ্ধার অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেদিন অভিযান স্থগিত করা হয়।
সরাইল ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রিয়াজ মোহাম্মদ জানান, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। একপর্যায়ে অরুয়াইল তিতাস নদীর পশ্চিম তীরে তেলিয়াকান্দি নৌকা ঘাট এলাকায় শিশুটির মরদেহ পানিতে ভাসতে দেখা যায়। পরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “তিতাস নদীতে ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়। তবে প্রথম দিন শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
