The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সরাইলে কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ

সরাইলে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রাব্বি মিয়া (২৮) নামের এক বিবাহিত যুবক ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
​শনিবার (৬ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং- ১১)। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাঁটিহাতা গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে রাব্বি মিয়াকে। এছাড়া অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগে তার বন্ধু মোঃ রাকিব মিয়া ওরফে রনিকে (২৩) দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে।
​মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের উত্তর সুহিলপুর গ্রামের এক কিশোরীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন বিবাহিত যুবক রাব্বি মিয়া। গত বুধবার (৩ জুন) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে সরাইল থানার কুট্টাপাড়া এলাকায় বন্ধু রনির বাসায় নিয়ে যান রাব্বি। সেখানে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ​ঘটনার পর ওইদিন রাত ১০টার দিকে ভিকটিম নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত রাব্বি বিবাহিত এবং তার এক সন্তান রয়েছে বিষয়টি জানতে পেরে কিশোরী তার পরিবারকে বিস্তারিত খুলে বলে।
ঘটনা জানার পর গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
​সরাইল থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূইয়া জানান, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
​এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন
Exit mobile version