ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুটি এনজিও সংস্থায় লুটের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। পরে কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ওই ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
রোববার দিবাগত রাতের এ ঘটনা ঘটে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাঁটিহাতা এলাকায়। আত্মসমর্পণ করা ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল গাফফার (৩৫)। তিনি খাঁটিহাতা গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।
সোমবার দুপুরে সদর থানা পুলিশ ডাকাত আব্দুল গাফফারকে সরাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে সরাইল উপজেলার উত্তর কুট্টাপাড়া এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত এনজিও কর্মী রাব্বী মিয়া শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এনজিও ও পুলিশ সূত্র জানায়, লুটের সময় দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একজনের মুখোশ খুলে যায়। ওই ব্যক্তির মুখ দেখতে পান আহত রাব্বী মিয়া। পরে সরাইল থানা পুলিশ ছবি দেখালে তিনি আব্দুল গাফফারকে শনাক্ত করেন।
এরপর গাফফারকে গ্রেপ্তারে রোববার রাত ১০টার দিকে সরাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল খাঁটিহাতা গ্রামে অভিযান চালায়। বাড়িতে গাফফারকে পাওয়ার পর তার দুই হাতে হাতকড়া পরানো হয়।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে গাফফারের স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে হাতবকড়া পড়া অবস্থায় তাকে ছিনিয়ে নেন। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে রাত ১১টার দিকে সদর থানা ও সরাইল থানা পুলিশ যৌথভাবে গাফফারের বাড়িতে ফের অভিযান চালায়। রাত ১টা পর্যন্ত চলা অভিযানে তার পরিবারের দুই সদস্যকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এরপর সোমবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে আব্দুল গাফফার সদর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে সদর থানা পুলিশ তাকে সরাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে, তার এ আত্মসমর্পণ পেছনে বিএনপির এক নেতার মধ্যস্থতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত আব্দুল গাফফারকে গ্রেপ্তারের জন্য রোববার রাতে খাঁটিহাতায় অভিযান চালানো হয়। পরিবারের লোকজন ধস্তাধস্তি করে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে কৌশলে থানায় হাজির করা হয়।’ তার বিরুদ্ধে ৫টি ডাকাতির মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি।
