The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

শিশুশ্রম বন্ধের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সনাক-টিআইবির মানববন্ধন

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিশুদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনসচেতনতামূলক সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে বর্জ্য খাতে শিশুশ্রম নির্মূলে ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ব্রাহ্মণবাড়িয়া এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- “শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই: শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি।”
সমাবেশে সনাকের ইয়েস সদস্য মো. মারুফ মণ্ডল টিআইবির ১২ দফা দাবি ও সুপারিশসম্বলিত ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। এতে শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা হালনাগাদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে কর্মরত শিশুদের পুনর্বাসন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।এছাড়া বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও নিষিদ্ধ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, পৌরসভা পর্যায়ে নজরদারি জোরদার, ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।ধারণাপত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের ঘটনা জানাতে পৃথক হটলাইন চালুর প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ডাম্পিং সাইট, ল্যান্ডফিল ও সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে বিশেষায়িত শিশুশ্রম পর্যবেক্ষণ ইউনিট গঠন করে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রম আইন-২০০৬ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মাধ্যমে মূলধারায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো. মেহেদী হাসান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য মো. আরজু মিয়া। ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সদস্য জয়নাব আক্তার।
এছাড়া বক্তব্য দেন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, কন্যা সামাজিক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি করবী চক্রবর্তী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের জেলা কর্মকর্তা বৃন্দাবন মণ্ডল, অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (ভূমি)-এর সদস্য রিপণ দেবনাথ ও সঞ্জয় কুমার দাস এবং ইয়েস গ্রুপের দলনেতা রাজিব সরকার।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. আব্দুর রহমান। এ সময় সনাক, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ, অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি), শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী এবং স্থানীয় নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
Exit mobile version