
শাখা উদ্বোধনের প্রাক্কালে ২৬ নভেম্বর ২০১৬, শনিবার ‘ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব ও সাফল্য’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ আবদুল মান্নান-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী, ব্যাংকের পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন ও প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল করিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খুলনা জোন জোনপ্রধান আবু নাছের মোহাম্মদ নাজমুল বারী। নির্ধারিত বিষয়ের উপর আলোচনা করেন ব্যাংকের শরী’আহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য ড. হাসান মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন ও লোহাগড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি মাসুম বিল্লাহ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন ও কল্যানমুখী অর্থায়ন সেবার মাধ্যমে জিডিপিতে অবদান রাখছে। তিনি বলেন, কৃষি, শিল্পায়ন, তৈরি পোশাক, অবকাঠামো, যোগাযোগ, আবাসন, তথ্য-প্রযুক্তি, বৈদেশিক বাণিজ্য ও এসএমই খাতের উন্নয়নসহ উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। গ্রামীণ দারিদ্র বিমোচনসহ মানুষের সার্বিক জীবনমান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমায়ে সুষম অর্থনেতিক উন্নয়নে কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক। একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে তিনি ইসলামী ব্যাংকের সাথে একযোগে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যান্য বক্তা বলেন, ইসলমী ব্যাংক সর্বোচ্চ নিয়মানুবর্তী, স্বচ্ছ ও পরিপালনকারী ব্যাংক। এ ব্যাংকের মডেল বিশ্বব্যাপী অনুকরণীয় হচ্ছে। উৎপাদন ও বন্টনমূলক সুবিচারের মাধ্যমে সমাজে ধনী-গরীবের ব্যবধান কমিয়ে সুষম উন্নয়নে কাজ করছে এ ব্যাংক। তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছে। কল্যাণকামী মানুষের সমন্ব^য়ে একটি দরদী সমাজ গঠন ও দেশের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের সাথে একযোগে কাজ করতে তারা সকলের প্রতি আহবান জানান।
মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সভাপতির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক উৎপাদনমুখী, প্রয়োজনভিত্তিক ও কল্যানধর্মী অর্থায়ন সেবার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রয়োজন পূরণে কাজ করছে। তিনি বলেন, পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২০ হাজার গ্রামের ১০ লক্ষাধিক পরিবারের জীবনমানে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, লোহাগড়ার উন্নয়ন পরিক্রমায় ইসলামী ব্যাংক নতুন ইঞ্জিন হিসেবে ভূমিকা রাখবে। লোহাগড়াকে এ ব্যাংকের জন্য একটি আদর্শ ক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় আমানত স্থানীয়ভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ এলাকায় কুটির শিল্প, হস্তশিল্প, কৃষি, এসএমই, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নতিসহ মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেন।