The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

মিষ্টিতে মাছি-পোকা- আদর্শ মাতৃ ভাণ্ডারকে ১ লাখ, মধুরাজ, ভোলাগিরি ও মহাদেবকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে মিষ্টির চাহিদা বাড়ায় বিভিন্ন মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও দোকানে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সদর উপজেলার আদর্শ মাতৃ ভাণ্ডার, ভোলানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মেসার্স মধুরাজ, ভোলাগিরি মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মহাদেব মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও শ্রী কৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার দোকানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে আদর্শ মাতৃ ভাণ্ডারের কারখানায় অস্বাস্থ্যকর ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মিষ্টি তৈরি করতে দেখা যায়। মিষ্টিতে মাছি-পোকার উপস্থিতি এবং কারখানায় মাছি-পোকা প্রতিরোধে কোনো কার্যক্রমও দেখা যায়নি। এছাড়া সব মিষ্টি ও কাঁচামাল ঢাকনাবিহীন অবস্থায় সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। উৎপাদিত মিষ্টিতে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ দেওয়া হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সও দেখাতে পারেনি।
এসব অনিয়মের দায় স্বীকার করায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম কায়সার-এর নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এদিকে মেসার্স মধুরাজ, ভোলাগিরি মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও মহাদেব মিষ্টান্ন ভাণ্ডার-এর দোকান ও কারখানায় অস্বাস্থ্যকর ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মিষ্টি ও দই তৈরি এবং সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। ফ্রিজে ছত্রাকসদৃশ কালো ময়লার উপস্থিতিও পাওয়া যায়। এছাড়া মিষ্টিতে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিককে যথাক্রমে ১০ হাজার, ২০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে ভোলানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার-এর পরিবেশ সন্তোষজনক পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সুন্দর রেখে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শ্রী কৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার দোকানকে মিষ্টি ক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণ এবং মিষ্টিতে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ উল্লেখ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আসিফুর রহমান এবং অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের প্রচলিত সব আইন ও বিধি মেনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আসিফুর রহমান বলেন, “দেশে কোনো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে মিষ্টির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ সময় মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বাড়তি চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ বজায় রাখতে গিয়ে উৎপাদন পরিবেশ যথাযথ রাখতে ব্যর্থ হয়। এমন বিশেষ সময়েও যাতে নিরাপদ মিষ্টি উৎপাদনের পরিবেশ বজায় থাকে, সেজন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনের নজরদারি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান জেলায় নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
Exit mobile version