The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোবাইল ছিনতাইকারকে ধরতে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ: কাটা পড়ল যুবকের দুই পা

চলন্ত ট্রেনে মোবাইল ফোন টান দিয়ে লাফিয়ে নেমে গেছে দুর্বৃত্ত। আর সেই ফোন উদ্ধারের আশায় লাফ দিলেন যুবক। কিন্তু তিনি মাটিতে ভালোভাবে নামতে পারলেন না। দুই পা চলে গেল রেল লাইনে। আর ট্রেনের চাকাগুলো ছুরি হয়ে কেটে দিলো পা দুটি।

দুই পা হারানো যুবকের নাম সেলিম মালদার চাকরি করেন সৌদি আরবে। ছুটিতে এসেছিলেন বাংলাদেশে। কিন্তু শনিবার তার জীবনটাই পাল্টে গেলো এক ঘটনায়।

শনিবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে আখাউড়া রেল সেকশনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনের অদূরে পৈরতলা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে ঘটে বলে জানিয়েছেন সেলিমের স্বজনরা।

সেলিম যখন মোবাইল ফোন উদ্ধারের আশায় লাফ দিয়েছিলেন চলন্ত ট্রেন থেকে, তখন তার দেখাদেখি লাফ দেন তার শ্যালক সিফাতও। তিনিও আহত হয়েছেন এ সময়। তবে তার জখম সেলিমের মতো অতটা মারাত্মক নয়।

সেলিম আখাউড়া পৌরশহরের মালদার পাড়া এলাকার মৃত রুহুল মালদারের ছেলে। আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, বাবা রুহুল হালদারের কুলখানির অনুষ্ঠান ছিল শুক্রবার। আর অনুষ্ঠান শেষ করে শনিবার নরসিংদীতে নিজের করা বাড়িতে স্ত্রী সন্তান এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে নিয়ে ফিরছিলেন সেলিম।

আখাউড়া স্টেশন থেকে তিতাস কমিউটার ট্রেনে করে চেপেছিলেন সেলিম ও তার স্বজনরা। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে যাত্রাবিরতি শেষে ছেড়ে দেয়ার পর পর সেলিমের মোবাইল ফোনটি টান দিয়ে নিয়ে যান এক জন। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থেকে লাফিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি।

ফোনটি উদ্ধারের আশায় সেলিম ও তার শ্যালক সিফাতও ওই ব্যক্তির মতোই ট্রেন থেকে লাফ দেন। কিন্তু ততক্ষণে ট্রেনের গতি বেড়ে গেছে। আর মাটিতে না পড়ে সেলিমের পা চলে যায় রেল লাইনে। আর চলন্ত ট্রেনের চাকা কেটে দেয় সেলিমের দুই পা। এ সময় শ্যালক সিফাতও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন।

সেলিমের প্রতিবেশী মো. জুয়েল বলেন, ছুটি শেষে ১০ জানুয়ারি কর্মস্থল সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল সেলিমের। কিন্তু তার সে যাত্রা এখন আর হচ্ছে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় সেলিমের স্বজনরা মুষড়ে পড়েছেন।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ওই ঘটনায় ছিনতাইকারীকে আটকের চেষ্টা চলছে। এটা কখনও কাম্য হতে পারে না। যার জন্য এই ঘটনা ঘটেছে, তাকে ধরে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।’

Exit mobile version