The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর: দীর্ঘ ৩ দশক পর হারানো আসন ফিরে পেলেন বিএনপি

মিঠু সূত্রধর পলাশ, নবীনগর প্রতিনিধি:  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর উপজেলা) আসনে ৩০ বছর পর জয়ের মুখ দেখেছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এড:আব্দুল মান্নান (ধানের শীষে) নির্বাচিত হয়ে ৩০ বছর আগে হারানো আসনটি ফেরত পেল দলটি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রহী সতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হোসেন তাপস (ফুটবল)। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বাকি ছয়জন  প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান  বলেন, আইন অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের এক–অষ্টমাংশ না পাওয়ায় এ আসনের ছয়জন  প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ‘ধানের শীষ প্রতীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।  এই বিজয়ের মাধ্যমে নবীনগরবাসী দীর্ঘ ৩০ বছর পর আবারও বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য পেলেন, যা নবীনগরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে সিদ্দিকুর রহমান বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টায় নবীনগর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি কেন্দ্রভিত্তিক গণনার চূড়ান্ত ফলাফল তুলে ধরেন।
নবীনগর উপজেলার মোট ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে বিজয়ী হন অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান। চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৭৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হোসেন তাপস পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৯৯৫ ভোট। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ‘রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৪৯ ভোট।
অল্প ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হওয়ায় নবীনগর আসনের এই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও আলোচিত।
ফলাফল ঘোষণার পর উপজেলা জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ তিন দশক পর নবীনগরে বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এলাকায় একটি নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
Exit mobile version