ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার সন্দিগ্ধ আসামী মো. তোফায়েল আহম্মদ ওরফে পাবেল (৩৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে সদর থানাধীন মধ্যমেড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত তোফায়েল মধ্যমেড্ডা এলাকার জিন্নত আলী ওরফে জিনু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় খাটিহাতা বিশ্বরোড এলাকায় ডিউটিকালীন পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের উত্তর বেতবাড়ীয়াস্থ ফাহাদ ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে মাসুদ মিয়ার গ্যারেজের পিছনে ১৪-১৫ জনের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে অভিযান চালালে ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ জসিম মিয়া নামে একজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও বাকিরা অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সুইচ গিয়ার, ধারালো দা এবং ৩টি লোহার রড জব্দ করে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে তোফায়েল আহম্মদ ওরফে পাবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন ও পথচারীদের টার্গেট করে ডাকাতি এবং ছিনতাই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ সাইদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় খুন, মারামারি ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে বলে বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে, তার গ্রেফতারে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, রাহাজানিসহ নানা অভিযোগ এলাকাবাসীর।
